নিজস্ব প্রতিবেদক : বাবুগঞ্জ-মুলাদী নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরিক এবি পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সহিংসতা ও অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচনী পরিবেশ সহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা শংকার কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ফুয়াদ দাবি করেন, মুলাদী উপজেলার সফিপুর, নাজিরপুর ও বাটামারা ইউনিয়ন সহ মোট ১৪টি ভোট কেন্দ্রকে “অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে মাদারিপুর, শরীয়তপুর সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পেশাদার ডাকাত ও বোমা তৈরিতে জড়িত একটি চক্র এলাকায় প্রবেশ করেছে। ফলে ভোটাররা ভয়ের মধ্যে আছে। তাদের অনেকেই অস্ত্রধারী এবং স্থানীয়ভাবে তাদের উপস্থিতি জনমনে শংকার তৈরি করেছে। এ বিষয় নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রায় ৫ কোটি টাকার জাল নোট তার এলাকায় প্রবেশ করেছে বলে দাবী করে ইতোমধ্যে এসব অর্থের লেনদেন বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বলেও জানান। তিনি অবিযোগ করেন, বিভিন্ন চরাঞ্চল ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় অস্ত্র দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো যৌথ বাহিনীর কার্যকর অভিযান চোখে পড়েনি বলে দাবি করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, অভিযান আরও জোরদার করতে হবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনী প্রশাসন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রিজাইডিং অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম তাদের কাছে রয়েছে, যারা ইতোমধ্যে দলীয় আনুগত্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ ও পেশাদার ব্যক্তিদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
পূর্বের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহŸান জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল বা তথাকথিত “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং” হলে তার ফল ভালো হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আমরা হেরে গেলেও নির্বাচনে অনিয়ম হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন চলবে।