নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশজুড়ে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে । মূলত হামের টিকা না দেওয়া, শিশুদের মায়ের বুকের দুধ ঠিকমতো না খাওয়ানো, প্রয়োজনীয় কৃমিনাশক না দেওয়া এবং অপুষ্টির কারণে হামের প্রকোপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এ অবস্থায় সরকার আগামী জুন মাসের শুরুতে একটি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির এক বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে শিশুদের নয় মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ প্রদান করা হয়। তবে বিশেষ এই কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের উচ্চ হার বিবেচনায় বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকার টিকা সংগ্রহের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার সহায়তায় টিকা, সিরিঞ্জ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ শুরু হয়েছে।
কর্মসূচিতে একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অভিভাবকদের জানানো হবে। এছাড়া মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও চলবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে দেড় হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। আইসিইউ শয্যা ও ভেন্টিলেটর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।