নিজস্ব প্রতিবেদক : উপকূলীয় জেলা বরগুনায় তরমুজ চাষে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। চলতি বছরে বাম্পার ফলন হলেও আকস্মিক ভারিবর্ষণ, জলাবদ্ধতা, পাইকার সংকট এবং চরম পরিবহন বিপর্যয়ের কারণে চাষিদের কপালে নেমে এসেছে লোকসানের ছায়া। প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত পাকা তরমুজ অনেক ক্ষেত্রেই মাঠেই পচে যাচ্ছে, ফলে ঋণ নিয়ে চাষ করা কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জেলার বুড়িরচর, মানিকখালী, এমবালিয়াতলী, নলটোনা, বদরখালী, আঠারোগাছিয়া, চাওড়া, হলদিয়া, শারিকখালী, সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া, বড়বগি, কালমেঘা, কাকচিড়া, চরদুয়ানী, কাজিরাবাদ ও হোসনাবাদসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এ বছর ব্যাপক পরিমাণে তরমুজের আবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে সবুজ তরমুজের সমারোহ থাকলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিদের মুখে এখন হতাশার ছাপ।
বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘জেলায় এ বছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পরিবহন সংকট ও বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতায় কৃষকেরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না।’
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজের বিশিষ্টজন মো. ইকবাল হাসান শাহিন বলেন, ‘কৃষকদের এই সংকট থেকে উত্তরণে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সংরক্ষণাগার, সহজ পরিবহন ব্যবস্থা ও সরাসরি বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে না পারলে কৃষকেরা ভবিষ্যতে তরমুজ চাষে নিরুৎসাহিত হবে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীনভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবহন সংকট এবং দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত প্রভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বরগুনার তরমুজ খাত বড় ধরনের সংকটে পড়বে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো কৃষক পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।