1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
ভাণ্ডারিয়ায় ইলিশহীন বৈশাখ : বাস্তবতার চাপে উৎসবের রঙ বদল - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

ভাণ্ডারিয়ায় ইলিশহীন বৈশাখ : বাস্তবতার চাপে উৎসবের রঙ বদল

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ তরিকুল ইসলাম, ভা-ারিয়া, পিরোজপুরঃ পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। নতুন বছরের প্রথম দিনটিকে ঘিরে থাকে আনন্দ, রঙ, গান আর লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধন। তবে সময় বদলাচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে উৎসবের চিরচেনা কিছু আবহ। পিরোজপুরের ভা-ারিয়াসহ উপকূলীয় জনপদে এবার বৈশাখ আসছে একটু ভিন্ন স্বাদ নিয়ে ইলিশের ঘাটতি আর বাস্তবতার চাপ নিয়ে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী কর্মসূচি থাকছে সকালে জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ সুরে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবই থাকছে আগের মতো। কিন্তু নেই ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ। এমনকি ডিম-পান্তার মতো বিকল্প আয়োজনও এবার বাদ পড়েছে। এটা শুধু কোনো আয়োজন কমে যাওয়া না এটা আসলে একটা সময়ের পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

এক সময় পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল পান্তা-ইলিশের ঘ্রাণে ভরা সকাল। বৈশাখের সকালে চিড়া, মুড়ি, দুধ-দইয়ের পাশাপাশি ইলিশ ছিল আনন্দের অংশ। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই স্মৃতিতে আটকে যাচ্ছে।

মাঠে ঘাটে ঘুরে দেখা গেছে মাছের বাজার, জেলেপল্লি, নদীঘাট কোথাও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ নেই। যা দু-একটা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো ছোট ঝাটকা, দামও নাগালের বাইরে।

বয়স্ক জেলে রুহুল আমীন হাওলাদার বলছিলেন, আগে নদী-সাগরে মাছ ছিল, এখন খুঁজেও পাওয়া যায় না। খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হয়। একই কথা শোনা গেল অন্য জেলেদের মুখেও জ্বালানি সংকট, দাদনের চাপ, মাছের অভাব সব মিলিয়ে তাদের জীবন এখন টিকে থাকার লড়াই।

অন্য জেলে মো. সবুজ ও মো. আমির হোসেনও একই সুরে কথা বলেন। তাদের মতে, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি আড়ৎ, মহাজন ও দাদনের চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। এখন মাছও কম পাওয়া যায়, আর যা পাওয়া যায় তা একাধিক হাত ঘুরে বাজারে আসায় ক্রেতাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

উপকূলীয় দক্ষিনাঞ্চলের মধ্যে সর্ববৃহৎ মৎস্যবন্দর পাড়ের হাটের পুরোনো আড়ৎদার মের্সাস রাবেয়া ফিসিং বোর্ডের মালিক মো. এলিন খানের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, আগে যেখানে অসংখ্য ট্রলার সাগরে যেত, এখন সংখ্যা কমে গেছে অনেক। বড় ইলিশ প্রায় অনুপস্থিত, মাঝারি মাছও সীমিত। সামনে আবার সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে, ফলে সরবরাহ আরও কমার আশঙ্কা। তবে মাঝারি (৩০০ থেকে সারে তিনশ বা সর্বোচ্চ ৪শ ওজনের) সাইজের এক পোন (৮০পিচ) ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকায় আড়তে ডাক হয়।

এ বিষয়ে ভা-ারিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সাগর ও নদ-নদীতে মাছের সরবরাহ কমে গেছে। প্রজনন শেষে বড় মাছ সাগরে চলে যাওয়ায় স্থানীয় নদীগুলোতে এখন ছোট আকারের ঝাটকা বেশি দেখা যাচ্ছে, যা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ঝাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শেষ হয়েছে এবং আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত টানা ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে এই সময়ে সাগরে গিয়ে মাছ শিকার করা সম্ভব নয়। এ কারণে পহেলা বৈশাখে ইলিশের সরবরাহ খুবই সীমিত থাকবে, আর যদি পাওয়া যায়ও, দাম তুলনামূলক বেশি হবে। তবে সামুদ্রিক মাছ যেমন রামছোচ, পোয়া এবং অন্যান্য প্রজাতির মাছ বাজারে কিছুটা পাওয়া যেতে পারে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network