1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
স্কুলের খাবার খেয়ে ২০০ শিক্ষার্থী অসুস্থ : এলাকায় আতঙ্ক - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সিঁদুর খেলতে গিয়ে অসুস্থ, প্রাণ গেল নববধূর ব্যাটারি পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ, অভিযোগের পরেও নীরব প্রশাসন! প্রধানমন্ত্রীর জীবনের হুমকির পেছনে বিরোধী দলের উসকানি রয়েছে : রাশেদ খাঁন নিজ বাসা থেকে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার ভোলায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার জরিমানার পরও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রি বরিশালে ট্রলার মেরামতের সময় বিদ্যুতায়িত যুবকের মৃত্যু শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ দেশ ছাড়ার সময় ইমিগ্রেশনে আওয়ামী লীগ নেতা আটক এশিয়ার পথে সুপার টাইফুন ‘চাম্পি’, দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল

স্কুলের খাবার খেয়ে ২০০ শিক্ষার্থী অসুস্থ : এলাকায় আতঙ্ক

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

অনলাইন প্রতিবেদক : চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্পের’ খাবার খেয়ে গত এক সপ্তাহে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিবেশিত বনরুটি, কলা ও সিদ্ধ ডিম খাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হতে শুরু করলে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন জেলাজুড়ে এই খাবার বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ছিল গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে ১৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন এবং সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা মূলত পেটব্যথা, বমি ভাব এবং শারীরিক চরম দুর্বলতার অভিযোগ করেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শিক্ষা কর্মকর্তারা অত্র বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

 

এই প্রকল্পের আওতায় খাবার সরবরাহের দায়িত্বে ছিল ‘গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থা। অনুসন্ধানে সংস্থাটির কার্যক্রমে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার হরিপুর এলাকায় গাক-এর ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্পের’সদর কার্যালয় ও গোডাউনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি দোতলা আবাসিক ভবনের নিচতলা ভাড়া নিয়ে গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম চললেও ভবনটির অবকাঠামো সম্পূর্ণ আবাসিক। সেখানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নাই। ভবনটি মাত্র ৪ থেকে ৫টি ছোট ছোট ভেন্টিলেটর স্থাপন করা আছে। এ ছাড়া, গাক কর্তৃপক্ষ কোনো সংবাদকর্মীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। এমনকি তারা তথ্য প্রদানে নানা অজুহাত দেখিয়ে অসহযোগিতা করে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো যোগাযোগ নম্বর দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গাক-এর নিজস্ব কোনো খাদ্য উৎপাদন কারখানা নেই। তারা রাজশাহী, বগুড়া ও স্থানীয় একটি ফ্যাক্টরি থেকে বনরুটি সংগ্রহ করে থাকে। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে বনরুটি ও কলা আগের দিন সন্ধ্যা থেকে ভোররাতের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসে পৌঁছায় এবং গোডাউন ঘরে রাখা হয়। পরে সকালে অটোতে করে বিভিন্ন স্কুলে সেগুলোকে পাঠানো হয়। এ ছাড়া, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে তাদের ডিম সিদ্ধ করার পদ্ধতিতে। তারা মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরি, প্রহরী কিংবা স্থানীয় অটোচালকদের দিয়ে ডিম সিদ্ধ করিয়ে শিশুদের মাঝে সরবরাহ করত।

 

অব্যবস্থাপনার দায়ে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে গাক-এর গোডাউনে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন। অভিযানে খাবারের মান ও সংরক্ষণ পদ্ধতিতে গুরুতর ত্রুটি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

গোডাউনের পাশের এক বৃদ্ধ বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় করে দুই বা তিনটি ট্রাকে খাদ্যসামগ্রী আসে। সেগুলো রাতে গোডাউনে রাখা হয়। পরে সকালে অটোতে করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া, ডিমগুলো দোলনা (অটোরিকশা) চালকরা সন্ধ্যার দিকে নিয়ে চলে যায় এবং নিজের বাড়িতে সিদ্ধ করে সকালে স্কুলে সরবরাহ করে।

 

সদর কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায় গাক-এর কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান ও মিজানুর রহমানকে। তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ নম্বর চাইলে তারা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন নম্বর দিতে নিষেধ আছে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহমুদুজ্জামান বলেন, স্কুলে সিদ্ধ ডিম সরবরাহ করা তাদের দায়িত্ব। তারা কাদেরকে দিয়ে ডিম সিদ্ধ করায় তা আমাদের জানা নাই। আমাদের সিদ্ধ ডিম দেয় এবং আমরা সেটা বুঝে নিই।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গাক-এর মাধ্যমে বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা সরবরাহ বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাণ গ্রুপ থেকে দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে।

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network