নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল :: ঘটনার ১৫ বছর পর বরিশালে হোটেলের কক্ষে স্ত্রীকে হত্যা মামলায় স্বামী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
একই মামলায় হোটেল ম্যানেজারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ।
হত্যাকাণ্ডের শিকার নাজমা জহির শোভা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার জহিরুল ইসলামের স্ত্রী। জহিরুল ঢাকায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মামলার নথি ও বাদীপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জহিরুল ইসলাম স্ত্রী শোভাকে নিয়ে সরকারি গাড়িতে ঢাকা থেকে বরিশালে আসেন। পরে নগরীর সদর রোডের হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষে তারা অবস্থান করেন।
পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে জহিরুল হোটেল থেকে বের হয়ে অফিসের গাড়িতে করে পটুয়াখালীতে সরকারি কাজে যান। এর আগে হোটেল কক্ষেই শোভাকে হত্যা করা হয়।
পরে হোটেলের কর্মীরা কক্ষে গিয়ে শোভার মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত শোভার বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে তার স্বামী জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজারকে আসামি করে মামলা করেন। নিলুফা আইরিনও চার বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মহাসিন মন্টু জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
সরকারি কৌশলী জানান, মামলার তদন্ত চলাকালে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি নেওয়া হয়। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে জানান সরকারি কৌশলী।
জবানবন্দিতে জহিরুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর সরকারি কাজে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হন তিনি। দপদপিয়া ফেরি পার হওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি গাড়ি থেকে বের করে কীর্তনখোলা নদীতে ফেলে দেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। আদালত ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং হোটেল ম্যানেজারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।