রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের গর্ভনিংবডির সভাপতি ব্যারিষ্টার সৈয়দ সাইফুল হক সাইফের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের জন্য অপপ্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ত্রিশাল প্রতিদিন নামের একটি তথাকথিত অনলাইন নিউজ পোর্টালে ” কাগজে কলমে উপস্থিত, দুই বছরেও বরিশালে আসেননি সৈয়দ বজলুল হক কলেজের সভাপতি” শিরোণামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
ব্যারিষ্টার সৈয়দ সাইফুল হক সাইফের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ঘৃণ্য অপপ্রয়াসে একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রিমহল ওই অনলাইনের বরিশাল প্রতিনিধিকে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য দিয়ে অপপ্রচারমূলক এ সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।
এর প্রতিবাদে আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজে টিচার্স কাউন্সিলের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অধ্যক্ষ সহ সকল শিক্ষক ও কর্মচারীরা কলেজের সভাপতি ব্যারিষ্টার সৈয়দ সাইফুল হক সাইফের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এসময় কলেজ অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক বলেন,কলেজ গর্ভনিংবডিতে ব্যারিষ্টার সৈয়দ সাইফুল হক সাইফের মত সভাপতি পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়।
তারমত সভাপতি দেশের সব কলেজে পেলে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন হতো। তিনি সভাপতি হয়ে কলেজের উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে ৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। তার তিন লক্ষাধিক টাকার অর্থায়নে দুই বছর শিক্ষাসফর, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ, প্রয়াত চাচা সৈয়দ নাজিমুল হকের নামে শিক্ষা বৃত্তি চালু, কলেজের মসজিদ সংস্কার ও দশ লাখ টাকা ব্যয়ে তোরণ নির্মাণসহ কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। কলেজকে রাজনীতিমুক্ত রাখার পাশাপাশি একটি আদর্শবিদ্যাপীঠে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন।
অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক উদাহরণ টেনে আরও বলেন, এর আগে তিনি ভিন্ন জেলায় দুটি কলেজে ২৯ বছর শিক্ষকতা করেছেন কলেজে সভাপতিরা এলে তাদের গরু-খাসি দিয়ে আপ্যায়িত করা লাগতো। সভাপতি দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশালবহর নিয়ে কলেজে আসতেন। কিন্তু ব্যতিক্রম বানারীপাড়ার বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের সভাপতি ব্যারিষ্টার সৈয়দ সাইফুল হক সাইফের বেলায়।
তার জন্য কলেজের কোন খরচ করতে হয়না বরং তিনি কলেজের সার্বিক উন্নয়নে উদারহস্তে ব্যয় করেন। কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণের উপক্রম হলে কলেজের সভাপতি ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে তার উন্নত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করে তাকে সুস্থ করে তুলে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
তিনি এলাকার অসহায় দু:স্থদের শাড়ি-কাপড় ও শীতবস্ত্র প্রদানসহ নানা সহায়তা করে থাকেন। কলেজে বসে গর্ভনিংবডির মিটিং করতে হবে এমন কোন সুনির্দিষ্ট বিধান নেই বলে উল্লেখ করে অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক আরও বলেন,সভাপতি চাইলে তার বাসা কিংবা কার্যালয়ে যেকোন স্থানে বসে সভা করতে পারেন। সভাপতি এসব সভার যাতায়াতসহ সার্বিক খরচ নিজে বহন করেন।
কলেজের উপাধ্যক্ষ ওবায়দুল হক বলেন,ব্যারিষ্টার সৈয়দ সাইফুল হক সাইফ কলেজের গর্ভনিংবডির সভাপতি হয়ে যাবতীয় অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স নীতিতে অবস্থান গ্রহণ করায় একটি স্বার্থান্বেষী দুর্নীতিবাজ চক্র উত্তরাঞ্চলের অখ্যাত অনলাইন পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সংবাদ প্রকাশ করিয়ে তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়েছে।
যা কলেজের সকল শিক্ষার্থী,শিক্ষক,কর্মচারী অভিভাকসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে ক্ষুদ্ধ ও ব্যথিত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সভায় উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক এধরণের সংবাদ প্রচার না করতে ওই অনলাইন পত্রিকার প্রতি আহবান জানানো হয়।