নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরগুনার পাথরঘাটায় অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড এবং ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের ব্যবহৃত একটি নগদ অ্যাকাউন্টে একদিনে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খাঁন।
গ্রেফতাররা হলেন- পাথারঘাটার চরদোয়ানী এলাকার মো. হুমায়ুন কবির হিরো (৪৬), মো. ইরাজ আহমেদ (৩৮), মিঠুন বিশ্বাস (৩২), গোলাম রসুল রিফাত (৩৫), পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া এলাকার মো. রেদওয়ান (২৭) ও বরগুনা সদর এলাকার মো. খাইরুল ইসলাম (২২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার চরদোয়ানী এলাকার সোহেল স্টোর নামের প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে খোলা একটি নগদ অ্যাকাউন্টের সন্ধান পায় পুলিশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই অ্যাকাউন্টে ৯৪ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ টাকা লেনদেন হয়।
অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যবহৃত সিমকার্ডটি মিঠুন বিশ্বাসের নামে নিবন্ধিত ছিল। মিঠুন পেশায় চায়ের দোকানি। তবে দুই থেকে তিন বছর আগে ওই একই সিমকার্ড দিয়ে গোলাম রসূল রিফাত নামে আরেক ব্যক্তি ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
কিন্তু গত এক বছর আগে গোলাম রসূল কুয়েত চলে যাওয়ায় সিমটি গ্রেফতার ইরাজ আহমেদের কাছে বিক্রি করেন। তবে ওই সিমকার্ডটি কয়েক দফা হাতবদল হয়েছে। দুই থেকে তিন বছর আগে গোলাম রসুল রিফাত ওই সিম ব্যবহার করতেন। তিনি কুয়েত যাওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে সিমটি ইরাজ আহমেদের কাছে বিক্রি করেন। পরে ইরাজ নিজের নামে নিবন্ধন না করে মিঠুন বিশ্বাসের নামে সিমটি নিবন্ধন করান।
এরপর ব্যবসা ভালো না হওয়ায় প্রায় আড়াই মাস আগে সিমটি নগদের এসআর রেদওয়ানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রেদওয়ান পরে লেনদেনের জন্য সেটি হুমায়ুন কবির হিরোর কাছে দেন।
একপর্যায়ে প্রতি এক হাজার টাকা লেনদেনে চার টাকা কমিশনের বিনিময়ে সিমটি অনলাইন জুয়াড়ি মারুফ চৌধুরীর কাছে দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিমটির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর শনাক্ত করে পুলিশ। ওই আইএমইআই নম্বরে গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৯৪টি সিমকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সিম মারুফ চৌধুরীর নামে নিবন্ধিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এ চক্রের কথিত সদস্য মারুফ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খাঁন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ ঘটনায় পাথরঘাটা থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতার ৬ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।