1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
নির্যাতিত শিশুকে ‘রক্তের নাতি’ দাবি করলেন সেই বিএনপি নেতা - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন

নির্যাতিত শিশুকে ‘রক্তের নাতি’ দাবি করলেন সেই বিএনপি নেতা

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মা ও ছেলেকে নির্যাতনের ঘটনায় শিশু জিসানকে এবার ‘রক্তের নাতি’ দাবি করেছেন অভিযুক্ত সেই বিএনপি নেতা। এছাড়া ঘটনার রাতে চুরির দায়ে পুলিশ ওই শিশুকে হেফাজতে নেয়নি বলে মায়ের সামনেই শাসন করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে সেদিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে সরেজমিন অনুসন্ধান চালায় কালবেলা। অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকামইয়া ইউপির প্রভাবশালী ব্যক্তি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য আবদুল হাই তালুকদারের বাড়ি থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর একটি মানিব্যাগ চুরির অভিযোগ ওঠে একই এলাকার মৃত বাচ্চু হাওলাদারের পুত্র ১৩ বছরের শিশু জিসান হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

সেদিন রাতেই জিসানের বাড়িতে গিয়ে তাকে ডেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন আবদুল হাই। এসময় শিশুটির মা নাজমা বেগমও ওই বাড়িতে যান।এছাড়া মানিব্যাগ চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা শুনে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার। তিনি পুলিশে ফোন দিলে তারা না যাওয়ায় মুরগি তাড়ানো বাঁশের কঞ্চি দিয়ে জিসানকে মারধর করেন।

এসময় গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন শিশুর মা নাজমা বেগম। যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

চুরির অপবাদ / মাসহ এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ বিএনপির ২ নেতার বিরুদ্ধে কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী বয়োবৃদ্ধা ফরিদা বেগম জানান, ঘটনার সময় চুন্নু তালুকদার তার নাতিকে টুনি দিয়ে (শুকনো বাঁশের কঞ্চি) ৬-৭টি আঘাত করে। এরপর তার স্ত্রী নাজমুন নাহার কঞ্চি টেনে ধরেন।

এই নারীর দাবি, গত ১ বছরে এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত জিসান। সে আবার চুন্নু তালুকদারের ফুফাতো বোনের ছেলের ঘরে ছেলে। স্থানীয়রা তাই অভিযোগ নিয়ে তালুকদার বাড়িতেই আসতেন। যা নিয়ে বিরক্ত ছিল চুন্নুর পরিবার।

ফরিদা আরও জানান, স্থানীয় বেশ কয়েকটি দোকানসহ এক প্রবাসীর বাড়িতে চুরির ঘটনার পর জিসানকে শিকল পড়িয়ে বাড়িতেই রাখতেন তার মা। কিন্তু সুযোগ পেলেই চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পরে এই ছেলে। যা নিয়ে স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অপরদিকে বিএনপি নেতা চুন্নুর স্ত্রী নাজমুন নাহার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি এমন কিছু ঘটে যাবে। জিসানের পরিবারের পাশে সবসময় আমরাই থাকি।’

তার দাবি জিসানকে মারার সময় তার মা নিজেই শাসন করতে বলেছেন। এছাড়া জিসানের মা তাদের ভাগ্নে বউ। ঘরের সবাই জিসানকে এতিম শিশু হিসেবে আদর করে, ভালোবাসে। শুধু চুরি থেকে ফেরাতে তাকে শাসন করা হয়েছে, এ কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাজমুন নাহার।

জিসানের চুরির ঘটনা সত্যতা যাছাইয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা হয় স্থানীয় দোকানি রাসেলের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী মারা যাওয়ার দিনে জানাজার সময় তার দোকান থেকে বিস্কুটসহ বহু জিনিস চুরি করে নিয়ে গেছে জিসান।

অপরদিকে স্থানীয় বৃদ্ধ মুজাফফর গাজী বলেন, সম্প্রতি রাতের আঁধারে তার পকেটে হাত দিয়ে টাকা চুরির চেষ্টা চালায় জিসান। পরে তিনি চড় মেরে জিসানকে দূরে সরিয়ে দেন। তবে জিসানের অভিযোগ, ওইদিন রাতে হাই তালুকদারের কাজের লোক আতিকের সঙ্গে বাড়িতে প্রবেশ করলেও সে মানিব্যাগ চুরি করেনি।

একটা খালি মানিব্যাগ সে পেয়েছে কিন্তু তাতে কোনো টাকা পয়সা ছিল না। তাকে অন্যায়ভাবে মারা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত হাই তালুকদারের দাবি, জিসানকে ধরে নিয়ে আসার পর তার মা তাদের বাড়ি থেকে মানিব্যাগ আর কাগজপত্র ফেরত নিয়ে আসে।

কিন্তু সেখানে ৫ হাজার টাকা থাকলেও তা ফেরত দেয়নি। শুধু কয়েকটি কয়েনসহ ফেরত দিয়েছে। তিনি বলেন, জিসানের বাবা আমার ভাগ্নে। সে বেঁচে নেই। কিন্তু মৃত্যুর আগে ৫০ হাজার টাকা জমি বন্ধকির জন্য দিয়ে গেছে। বিনিময়ে সেই জমি চাষ করছে ভাগ্নে বউ নাজমা। এখানে জমির বিষয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ষড়যন্ত্র করে এখন মিথ্যা বলছে। আমরা কোনো দিন অস্বীকার করিনি যে, ওরা জমি পাবে না। চুরির বিষয়টি ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করা হয়েছে। তাহলে জিসানকে কেন মারলেন? এমন প্রশ্নে তিনি জানান, নাতির অধিকারে শাসন করা হয়েছে।

যদি এটা ভুল হয়েছে জানিয়ে তিনি জিসানের মাকে মারার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। চুন্নু তালুকদার বলেন, ‘আপনারা আমাকে মেরে ফেলুন। আমার নাতিকে আমি চুরি থেকে ফেরাতে অধিকার নিয়ে শাসন করেছি।

ওর বিরুদ্ধে এতদিন যতগুলো অভিযোগ এসেছে, তা আমি ও আমার পরিবার সামাল দিয়েছি। গোটা পরিবারটাকে সব ধরনের সাপোর্ট দিয়ে আসছি। ও আমার রক্তের নাতি হয়। অধিকাংশ সময় আমার বাড়িতে কাটায়। কিন্তু নাজমা কেন, কার কুপরামর্শে মিথ্যা বলছে তা আমি জানি না। জিসানের মা নিজেই আমাকে শাসন করতে বলেছে।’

তিনি আরও বলেন, আমি চাকামইয়ার দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসার মিজানকে ফোন দিয়েছিলাম। জিসানের বয়স কম হওয়ায় তিনি আমাকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন। তাহলে আমার কী করার ছিল?

রাগের মাথায় মারাটাও ভুল হয়েছে স্বীকার করেন চুন্নু তালুকদার। তবে শিশুকে গোয়াল ঘরে বেঁধে রাখা ও তার মাকে মারধরের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

তবে কলাপাড়া থানার এএসআই মিজান জানান, ওদিন রাতে আমাকে উকিল সাহেব ফোন দিয়েছেন, এটা সত্যি। কিন্তু আমি দূরে অবস্থান করছিলাম। তাই তাকে থানার ডিউটি অফিসারকে কল করতে বলেছি।

তবে শিশুকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শের কথা অস্বীকার করেন এই পুলিশ সদস্য। এদিকে, কলাপাড়া হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিশু জিসান ও তার মা নাজমা বেগম। নাজমা বলেন, ছোটখাটো চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে মাঝেমধ্যে জিসানকে তিনি শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতেন।

এছাড়া চুন্নু মিয়া তাদের আত্নীয় এ কথাও স্বীকার করেন। কিন্তু ওইদিন চুরির অপবাদ দিয়ে তার ছেলেকে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে। কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network