নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে শয়নকক্ষ থেকে মুসরিকা আক্তার মিতু (১৫) নামের এক কিশোরী গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের চৌতাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিতু ওই গ্রামের সাঞ্জাপাড়া এলাকার মাসুদ রানার মেয়ে এবং ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী সোয়ায়েব ইসলাম শুভ একই গ্রামের শাহিনুর ইসলামের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিতু মামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র শুভর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। পরে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন। ঘটনার তিন মাস আগে দুই পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে সেচ দেওয়ার কাজ দেখতে যান শুভ ও মিতু। সেখানে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে কী নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, তা পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি।
পরে মিতু একা বাড়িতে ফিরে শোয়ার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। ওই ঘরে তার ছোট বোনও ছিল। কিছুক্ষণ পর মিতুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ছোট বোন চিৎকার শুরু করে। পরিবারের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের শ্বশুর শাহিনুর ইসলাম বলেন, রাত তিনটার দিকে শুভ ও মিতু পুকুরে গিয়েছিল। সেখানে কী নিয়ে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, তা আমি জানি না। পরে মিতু একা বাড়িতে ফিরে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পর তার ছোট বোন চিৎকার করলে আমরা গিয়ে মিতুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে তাকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ক্ষেতলাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল করিম বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।