নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বাসা মালিক ও ভাড়াটেদের পিকনিকের আয়োজনে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বায়েজিদ বিন মাহমুদ নামে ৭ বছরের শিশুর আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নাটোর শহরের বড়হরিশপুর পশ্চিম চেয়ারম্যানপাড় এলাকায় ঘটে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বাদী হয়ে এদিন রাতেই দুইজনকে আসামি করে নাটোর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত শাকিল, নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয় হিসাব শাখায় কর্মরত এবং তিনি নাটোর শহরের বড়হরিশপুর পশ্চিম চেয়ারম্যান এলাকায় ওই শিশুর বাড়িতে দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। তিনি জয়পুরহাট জেলার নিজামপুর চকবরকত এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
নাটোর থানা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বাসায় ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমার স্ত্রী পিকনিকের আয়োজন করেন। এসময় দুই শিশু খেলাধুলার একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি উভয় শিশুর মা তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন।
এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০দিকে পুলিশ কনস্টেবল শাকিল বাড়ির মালিক মাহমুদুল হাসানের দরজায় নক করে। এসময় দরজায় খোলা মাত্র শিশু বায়েজিদ বিন মাহমুদকে জোর করে নিজের রুমে নিয়ে যান।
সেখানে খাটের উপর শিশুটির হাত রেখে বঁটি দিয়ে কোপ দিলে ডান হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় শিশুটির কান্নার শব্দ পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত শিশুর বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন জানান, তার ছেলেকে জোর করে তাদের রুম থেকে নিয়ে যায়। তখন তার স্ত্রী ও বড় ছেলে হুজাইফা বিন মাহমুদ বাধা দিলে তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে তাদের রুমে নিয়ে এই ঘটনা ঘটায়। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে আহত শিশুটি রামেক হাসপাতালে ১নং ওয়ার্ডে নারী-শিশু বিভাগের ৫নং বেডে ডা. সুব্রত কুমার সরকারের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আলী জানান, এঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক দুই আসামি শাকিল ও তার স্ত্রী নাসরিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।