নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: মা ইলিশ সংরক্ষণে আসন্ন ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল করতে নদীতে নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, নদীতে নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নদীর বাইরে জেলা পুলিশ এবং মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ইলিশ আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, মজুত ও বাজারজাত ঠেকাতেও নজরদারি জোরদার করা হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আয়োজনে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬’ উপলক্ষে মৎস্য আহরণকারী অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মো. রবিউল ইসলাম।
নৌ পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও অংশীজনকে নিয়ে ইতোমধ্যে মতবিনিময় করা হয়েছে। জেলে ও সংশ্লিষ্টদের সুবিধা-অসুবিধা শোনা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে করণীয় সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নদীতে আমাদের নৌ পুলিশ থাকবে, কোস্ট গার্ড থাকবে। নদীর বাইরে ইলিশ পরিবহন ও সংরক্ষণ ঠেকাতে জেলা পুলিশ কাজ করবে। একই সঙ্গে ইলিশ যাতে পরিবহন করা না হয়, সে জন্য হাইওয়ে পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। সামগ্রিকভাবে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।
জেলেদের সরকারি সহায়তা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ ভালো বলতে পারবে। তবে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই সহায়তা দেওয়ার কথা। নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত জেলেরাই সহায়তা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অভিযানে নৌ পুলিশের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যে পরিমাণ স্পিডবোট থাকার কথা, তা নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী তেলেরও ঘাটতি রয়েছে। তবে আমরা এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ করছি।’
আসন্ন অভিযান সামনে রেখে অতিরিক্ত চাহিদা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত তেল পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত না হলেও অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে এবারের অভিযান কার্যকর করতে নদীপথের পাশাপাশি ইলিশ পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপরও নজরদারি জোরদার করা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।