লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদান, একাডেমিক সাফল্য, প্রশাসনিক দক্ষতা, গবেষণা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা-২০২৬’ পেয়েছেন ভোলার লালমোহনের সরকারি শাহবাজপুর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মোল্লা এলটি।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।
এ বছর শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১০২ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়া হয়।
নির্বাচিত শিক্ষকদের সম্মাননা পদক, সনদ, অভিনন্দন বার্তা ও প্রাইজমানির চেক দেওয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষকদের তালিকায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মোল্লার নাম স্থান পায়।
প্রায় ৩১ বছরের সরকারি চাকরিজীবনে শিক্ষকতা, শিক্ষা প্রশাসন, গবেষণা, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, স্কাউটিং ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার বহুমুখী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মোল্লা এলটি ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোর কাটে সিলেটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে তিনি মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিষয়ে ১৯৮৯ সালে অনার্স এবং ১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ২০০৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএসসি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল মাটির আর্দ্রতা ও এনপিকে সার ব্যবস্থাপনার অধীনে বার্লির শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য ও ফলনের সম্পর্ক। দেশি-বিদেশি জার্নালে তার আটটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়া ১৯৯৬ সালে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবনে সরকারি গৌরনদী কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও ভোলা সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন।
২০১৬ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ থেকে তিনি সরকারি শাহবাজপুর কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে তার সাফল্যের ঝুলিও বেশ সমৃদ্ধ।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২, ২০২৩ ও ২০২৬ সালে ভোলা জেলায় শ্রেষ্ঠ কলেজ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে বরিশাল বিভাগ থেকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ, কলেজ) নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
এছাড়া ২০১৭ ও ২০২৬ সালে জাতীয় শ্রেষ্ঠ রোভার শিক্ষক এবং ২০১৮ সালে কলেজ পর্যায়ে জাতীয় শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষদের শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।
শুধু শিক্ষকতা নয়, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও গবেষণাতেও তার অবদান রয়েছে। এনসিটিবি অনুমোদিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ‘কৃষিশিক্ষা’ প্রথমপত্র ও দ্বিতীয়পত্র নামে তার দুটি পাঠ্যপুস্তক প্রকাশিত হয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ স্কাউটসের লিডার ট্রেনার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। স্কাউটিংয়ে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন মেডেল অব মেরিট, বার টু দ্য মেডেল অব মেরিট, লং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড ও সিএনসি অ্যাওয়ার্ড।
তার নেতৃত্বে সরকারি শাহবাজপুর কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ডিজিটাল পাঠদান, ইনহাউস প্রশিক্ষণ, ক্যাম্পাস সবুজায়ন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে কলেজটির রোভার স্কাউট গ্রুপও বরিশাল বিভাগ থেকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ রোভার স্কাউট গ্রুপ নির্বাচিত হয়।
সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে ড. শফিকুল ইসলাম মোল্লা এলটি বলেন, এ অর্জন শুধু আমার একার নয়।
এ অর্জন আমাদের সরকারি শাহবাজপুর কলেজের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, এলাকাবাসী, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, মাউশি বরিশাল অঞ্চলসহ আমার পরিবার, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষাগুরু সকলের।
তাদের ভালোবাসা, স্নেহ-শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার ফসল এই স্বীকৃতি। এটি আমার শিক্ষা ক্যাডার জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি; জীবনের এক অত্যন্ত আনন্দঘন, গৌরবময় ও স্মরণীয় মুহূর্ত।