মো.আরিফুল ইসলাম,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এ বছর ৬৫টি পূজামণ্ডপে উদযাপিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা কমিটি গঠন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, আনসার সদস্য মোতায়েন এবং পুলিশের টহল জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাউফলের ৬৫টি পূজামণ্ডপের মধ্যে বাউফল পৌরসভায় ৫টি, কাছিপাড়া ইউনিয়নে ৪টি, কালিশুরী ইউনিয়নে ১০টি, ধুলিয়া ইউনিয়নে ৪টি, কেশবপুর ইউনিয়নে ৩টি, কনকদিয়া ইউনিয়নে ৪টি, বগা ইউনিয়নে ১১টি, কালাইয়া ইউনিয়নে ৩টি, দাশপাড়া ইউনিয়নে ১টি, বাউফল ইউনিয়নে ১০টি, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে ৬টি এবং নওমালা ইউনিয়নে ৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
প্রশাসন সূত্র জানায়, পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পূজামণ্ডপের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে পূজা উদযাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরাও সহযোগিতা করবেন।
বাউফল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অতুল চন্দ্র পাল বলেন, “দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পূজা কমিটির নিজস্ব লোকজন দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ যাতে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তার বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে আটজন করে এবং তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে ছয়জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।”
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।”
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। প্রতিটি পূজা মন্ডপের নিরাপত্তা স্বার্থে সিসি ক্যামেরা উত্থাপনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।”
এদিকে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পূজার দিনগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বাউফলজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আয়োজকরা।