নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে খুঁটি ও নেট দিয়ে ঘিরে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক শ্রমিকদের কার্যালয় নির্মাণের জন্য জমিটি দখল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযুক্তদের দুজন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সালাহউদ্দিন মাস্টারের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে সরকারি জমিটি ঘিরে ফেলা হয়। তবে সালাহউদ্দিন মাস্টার এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ইমরান, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আদম আলী, শ্যামনগর উপজেলা তরুণ দলের আহ্বায়ক জয়নাল হোসেন, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আলামিন মোল্লা, ইউনিয়ন ছাত্রদলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুজার গাজী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুন্সিগঞ্জ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতের আঁধারে সরকারি জমিটি ঘিরে দেওয়া হয়। সকালে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে সেখানে কাজ করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগে মুন্সিগঞ্জ বাজারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি পরিত্যক্ত দোকান দখল করে বিএনপির দলীয় কার্যালয় স্থাপনের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আদম আলী ও ইমরান হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল শ্রমিক ও ইজিবাইক শ্রমিকদের কার্যালয় করার জন্য তারা সরকারি জায়গাটি দখল করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন মাস্টার বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। দখল কার্যক্রমে আমি ছিলাম না। সকালে বিষয়টি শুনেছি।’
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলাইমান কবির বলেন, ‘দলের কেউ সরকারি জায়গা দখল করলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরিফ ফাহাদ বলেন, ‘সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’