1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
বাউফল পৌর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ! - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বরিশালে চশমার দোকানে প্রেমিকের ‘দা’ নিয়ে হামলা : লেন্স পাল্টানো নিয়ে তুলকালাম রাঙ্গাবালীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত কুয়াকাটায় ইয়াবা সেবনকালে ভিডিওতে ধরা খেলেন মৎস্যজীবী দল নেতা ১৬ বিঘা জমিতে আবাদ : পানির ভয়াবহ সংকটে কলাপাড়ার ধান চাষিরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি : বরিশালের দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আমতলী উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পবিপ্রবির বরিশাল ক্যাম্পাসে মেইন গেট নির্মাণে অনিয়ম, পিলারের কাঠামোগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন বরিশালে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা আগামী মাসের মধ্যে কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হবো : প্রধানমন্ত্রী গৌরনদীতে টয়লেটে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা

বাউফল পৌর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ!

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

মো.আরিফুল ইসলাম,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে পৌর প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নকসা আটকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চাকুরির শুরু থেকে প্রায় ১৮ বছর একই উপজেলায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

২০০১সালে বিএনপি সময় চাকুরীতে যোগদান করলেও পরবর্তিতে বনে যান আওয়ামীলীগের সমর্থক। কিন্তু ৫আগস্টের পর আবারও বোল পাল্টে অন্য সংগঠনের কর্মী হওয়ার চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। সে চেষ্টায় তিনি সফল হবেন হয়তো কিন্তু স্থানীয়দের দাবি ইঞ্জিনিয়ার আতিকের অপসারণ।

জানাগেছে, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম ২০০১ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন। যোগদানের ২৫বছরে মধ্যে বাউফল পৌরসভাতেই প্রায় ১৮বছর কর্মরত আছেন। পৌরসভার বিল্ডিং প্ল্যানিংয়ের অনুমোদনের দায়িত্ব তার হাতে। কিন্তু বাহিরের কোন আর্কিটেকচারের করা নকসা পাশ হয় না বলে অভিযোগে রয়েছে। বিধান রয়েছে প্ল্যান অনুমোদন প্রক্রিয়ার সাথে পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ কোন ভাবেই জড়িত থাকতে পারবেন না। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের মাধ্যমে নকসা পাশ করাতে বাধ্য করা হয় গ্রাহককে। না হলে প্ল্যান পাশ করাতে পারেন না ভবন নির্মাণ মালিকগন। তাছারা নিজের করা প্ল্যান পাশ করাতে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন ফি ১হাজার টাকা, ৫ শত বর্গফিট একটি একতলা বিশিষ্ট ভবনের জন্য ২হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতি বর্গফিটের জন্য ২টাকা করে সরকারী ভাবে জমা দিতে হয়। পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহককে ২গুন, তিনগুন ক্ষেত্রবিশেষ তারচেয়েও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। নিয়ম রয়েছে প্রতি তিন মাস অন্তর বিল্ডিং প্লানিং কমিটির সভা করতে হবে। কিন্তু ২৪ সালের ৫আগষ্টের আগে ১টি সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি। ৫আগষ্টের পর দেড় বছরে মাত্র ২টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক শক্তি কাজে লাগিয়ে নিজেই নিজের মত করে তার দপ্তর পরিচালনা করে আসছেন গত ১৯ বছর। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সাথে আতআত করে একই উপজেলায় বহু বছর কর্মরত রয়েছেন। একজন কর্মকর্তা এত বছর একই উপজেলায় কর্মরত থাকতে পারেন কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে দেখাগেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে প্লান করার কারণে বর্তমানে পৌরসভা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ২৫-৩০টি প্ল্যান পেইন্ডিং রয়েছে। পৌরসভার শুরু থেকেই ভবন নির্মাণের নকশা বাধ্যতা মূলক। এসুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। ভবন নির্মাণ মালিকদের কাছ থেকে নানা তালবাহানা পাকিয়ে অনৈতিক ভাবে অর্থ হাতিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএননিসি) এর নিয়ম অনুসারে ডিজাইনকৃত প্রকৌশলী ওই সাইড সুপারভাইস বা দেখাশোনা করবেন এবং অঙ্গিকারনামা দিতে হবে। কাগজে কলমে সব ঠিক থাকলেও নকশা করা প্রকৌশলীরা বাউফল উপজেলায় কোন দিন আসে নাই বা তারা চিনেনও না।

মুঠোফোনে কথা হয় প্রকৌশলী মো ফয়েজউল্লাহর সাথে তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে দিয়ে নকসার সকল কাজ করিয়ে থাকেন। প্লানের তদারকি তারা করেন না। তিনি বাউফল উপজেলায় অসেননি এবং চিনেনও না।

ইঞ্জিনিয়ার নাঈম নামের অপর এক প্রকৌশলী জানান, তিনি আগে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের সকল কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি ভান্ডারিয়া পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন। কোন কাজের তদারকি তিনি বাউফলে এসে করেননি।

ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় নামের পটুয়াখালীর একজন প্রকৌশলী জানান, তাকে দিয়ে নামমাত্র পারিশ্রমিকে নকসার ডিজাইনের কাজ করাতেন। ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে বলতেন, বাউফল পৌরসভার সকল নাগরিকের নকসার কাজ আতিক সাহেব বিনামূল্যে করে থাকেন। তাই তাকে নামমাত্র পারিশ্রমিক পরিশোধ করতেন।

বাউফল উপজেলা ভিত্তিক স্থাপতি মো. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আতিকের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্য। আমি নিজে একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের করা কোন নকসার কাজের অনুমোদন দেয়া হয় না। আমি এর আগে পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলাম।

পৌর প্রশাসক আমাদেরকে এক সাথে নিয়ে বসে সকল নকসা পাশ করার নির্দেশ দেন আতিক সাহেবকে। কিন্তু এর পরও সে আমাদের কোন নকসা অনুমোদন দেন না। বর্তমান ইউএনও মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করলে তিনি কিছুটা তাড়িয়ে দেয়ার মত আচারণ করেছেন।

এবিষয়ে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘আমি ২৪ সালের ৫আগস্টের ৩মাস আগে প্ল্যান অনুমোদনের জন্য দিয়েছি। এখনও অনুমোদন পাইনি। আমার কাছ থেকে কয়েক ধাপে মোট ৬০হাজার টাকার বেশি নেয়া হয়েছে। টাকাও ফেরৎ দেয় না আর নকসা অনুমোদনও দেয় না।

পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহাগ বলেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্ল্যান অনুমোদনের জন্য যাবতীয় সকল কাগজ-পত্র দিয়েছি কিন্তু কবে অনুমোদন হবে জানিনা। আমার কাছ থেকে ২৬-২৮হাজার টাকা নিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের একজন সরকারী কর্মকর্তা জানান, আমার কাছ থেকে ২৩হাজার টাকা নিয়েছে নকসা অনুমোদনের জন্য। ১বছর হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। তার প্লানটি বাহিরের ইঞ্জিয়ার দিয়ে করিয়েছেন।

পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নির্মাণ ভবন মালিক তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমি বাহিরে একজন ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা নকশা তৈরি করেছি। প্রায় ৬মাস হয়েছে অনুমোদন দিচ্ছে না। কাজ শুরু করতে মালামাল এনে রেখেছি অনুমোদনের কারণে কাজ শুরু করতে পারছি না। অনেক মাল নষ্ট হয়ে গেছে।

পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, ‘আমি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আমার বিল্ডিং প্লান ও সয়েল স্টেস্টের কথা বলে ৮০হাজার টাকা নিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। এখনও পর্যন্ত প্লান পাশ হয়নি। সম্প্রতি তিনি আবার নতুন করে টাকা দাবি করছেন।’

পৌরসভার ২নংওয়ার্ডে বাসিন্দা মো আনিক জানান, তার নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি বাউন্ডারি ওয়াল করতে আতিক তার কাছ থেকে ১৭হাজার টাকা নিয়েছেন। ১বছরের বেশি সময় হয়ে গেলেও কোন ধরনের প্লান অনুমোদন না দিয়ে নানা অজুহাতে আজ-কাল করে সময় ক্ষেপণ করছেন।

অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো আতিকুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোন অনিয়মের সাথে জড়িত নই। এমনকি জানুয়ারী পর্যন্ত কোন প্লান পেইন্ডিং নেই। তিনি কোন প্লানের সাথে জড়িত না বলেও জানান তিনি।’

এবিষয়ে ডেপুটি ডিরেক্টর অব লোকাল গভার্নমেন্ট (ডিডিএলজি) জুয়েল রানা বলেন, ‘পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে আমরা তদন্ত করেছি তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি। এক ব্যক্তি এক উপজেলায় ১৮/১৯ বছর থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি মন্ত্রনালয়ের বিষয়।’

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network