নিজস্ব প্রতিবেদক : কথা রাখলেন বরিশাল মহানগর প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। নগর ভবনের নির্দেশনা মেনে ফুটপাত, রাস্তার ধার সহ নগরীর পার্ক সহ শ্রান্তি বিনোদন কেন্দ্র সমূহ থেকে সরে না যাওয়া অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে রোববার সকাল থেকেই। তবে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই অন্তত অর্ধেক দখলদার স্বেচ্ছায় সরকারি রাস্তা, ফুটপাত ও পার্কের দখল ছেড়ে চলে গেছে।
গত দশদিন ধরে নগর ভবন থেকে মাইকিং করে ১০ এপ্রিলের মধ্যে সব অবৈধ দখলদারদের সড়ে যাবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এরপরেও একদিন বাড়তি সময় দিয়ে রোববার সকাল থেকে প্রথমে নগর ভবন সংলগ্ন ফজলুল হক এভেনিউ ও চকবাজারের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ শুরু হয়। পরে সদর রোডে বিবির পুকুর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে ঐতিহ্যবাহী বেল পার্ক থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করে নগর ভবনের কর্মীগন।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার জানান, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সোমবার নগরীর নবগ্রাম রোড চৌমহনী লেকের পাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পরে পর্যায়ক্রমে সব পার্ক ও জনসমাগমস্থল থেকে অবৈধ স্থাপনা তুলে দেবেন তারা।
এদিকে রোবাবার বেল পার্ক থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদের পরে সর্বস্তরের মানুষ বুক ভরে নিশ্বাস নিয়েছেন এ পার্কটিতে। অবৈধ স্থাপনার ভারে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ পার্কটিরই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল এখানে শ্রান্তি বিনোদনের সব পথই রুদ্ধ করে দিয়েছিল এসব অবৈধ দোকানপাট।
অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে নগরীকে উদ্ধারে সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশাসককেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন নগরীর সর্বস্তরের মানুষ। পাশাপাশি এ উদ্ধার কার্যক্রম যাতে টেকশই হয়, সে লক্ষ্যেও নিয়মিত নজরদারী অব্যাহত রাখা সহ এসব অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে এতদিন যারা চাাঁদা তুলেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন আমজনতা।
আর নগরী জুড়ে পথ খাবারের দোকান সমূহ এ নগরবাসীর পেটের পীড়াকে স্থায়ী রূপ দিছে অনেক আগেই। গত বছর দক্ষিণাঞ্চলের শুধু সরকারি হাসপাতালেই ৭৯ হাজারের বেশী ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ার রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে বরিশালের সংখ্যাটা ১০ হাজারেরও বেশী।