1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
ভয়ে ভোটারদের ‘ঘুষ’ দিচ্ছেন ট্রাম্প? - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

ভয়ে ভোটারদের ‘ঘুষ’ দিচ্ছেন ট্রাম্প?

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল :: আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি জয়ী হলে প্রতিটি মার্কিন নাগরিককে নগদ পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়ার যে আশ্চর্য প্রতিশ্রুতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক অভিজ্ঞদের মাঝে চরম বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী কনভেনশনের প্রথম রাতে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যের প্রায় এক ঘণ্টা পর ট্রাম্প হুট করেই এই এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচের নগদ সহায়তার ঘোষণাটি সামনে আনেন।

তবে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ কীভাবে জোগাড় করা হবে বা কীভাবে তা বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দিতে পারেননি। হোয়াইট হাউস থেকে পরবর্তী সময়ে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয় যে এটি ট্রাম্পের অনন্য নেতৃত্বের প্রমাণ, যা তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখায়; যদিও এতেও বাস্তবায়নের কোনো কৌশল উল্লেখ করা হয়নি।

ড্যালাসের কনভেনশন কেন্দ্রে উপস্থিত ট্রাম্প সমর্থকেরা এই ঘোষণাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেও, ভোটের মাঠে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা বহু রিপাবলিকান প্রার্থীই এই অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। বিশেষ করে দোদুল্যমান ভোটার এবং স্বতন্ত্র সমর্থকদের টেনে তোলার চেষ্টা করা প্রার্থীরা ট্রাম্পের এই অযাচিত প্রতিশ্রুতিতে হতবাক হয়েছেন। ট্রাম্পের আর্থিক নীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান নেতারাও প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছেন। সাবেক কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন যে পাঁচ হাজার ডলারে নিজের ভোট বিক্রি করার প্রস্তাবে তিনি অপমানিত বোধ করছেন এবং এই সিদ্ধান্ত যে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি ঘটাবে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি মজা করে অন্তত ১০ হাজার ডলারের দাবি তোলেন। আবার মেইন রাজ্যের সিনেটর সুসান কলিন্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে রাষ্ট্রীয় কর ও খরচের সিদ্ধান্ত কোনো নির্বাচনী ফলাফলের সাথে শর্তযুক্ত হওয়া উচিত নয়।

এদিকে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে একটি ফাঁকা বুলি বা ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কোনো নির্বাহী আদেশ জারি করে এত বড় অঙ্কের অর্থ সরকারি তহবিল থেকে বণ্টন করার কোনো সুযোগ প্রেসিডেন্ট নেই। ফলে এটি বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। কিন্তু মার্কিন সংবাদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না, আর যদি লাগেও তবে তারা তা পাস করে দেবে। বাস্তবে বহু রাজকোষ-রক্ষণশীল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাই এই জাতীয় বেপরোয়া খরচে সায় দেবেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রিপাবলিকান সাবেক প্রতিনিধি বব গুড তো ট্রাম্পের এই ডিভিডেন্ড পরিকল্পনাকে সরাসরি সমাজতান্ত্রিক ভোট কেনার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রশ্ন তুলছেন, এই অস্বাভাবিক প্রতিশ্রুতি কি মূলত নভেম্বরের নির্বাচনে বড় পরাজয়ের ভয় থেকেই ট্রাম্পের আতঙ্কের বহিঃপ্রকাশ? সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের ওপর একধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হয়, যেখানে প্রায়শই শাসক দলকে খেসারত দিতে হয়। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ এই মুহূর্তে তাঁর জনপ্রিয়তার সূচক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ সাধারণ মানুষের কাছে চরম অপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এর প্রভাবে তীব্র জ্বালানি সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে ভোটাররা জেরবার।

তাই নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সাথে কোনো আগাম পরামর্শ না করেই হঠাৎ এই ধরনের অবিশ্বাস্য কার্ড খেলে ট্রাম্প বস্তুত শেষ চেষ্টা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথা ভেঙে চমক সৃষ্টি করাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল হলেও, ভোটারদের অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত সেই অর্থ সত্যিই পৌঁছাবে; আমেরিকানরা যদি এই বিশ্বাসটুকু না পান, তবে এই অতি-বড় রাজনৈতিক বাজি তাঁর জন্য উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network