1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
অন্ধ ইউনুসের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, ১৯৮৮ সালে এইচএসসি পাস করে এখন বাদাম বিক্রি - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দিনভর পাঁচবার লোডশেডিং, ঘরে টেকা দায় পরিবার নিয়ে পার্কে স্বস্তির খোঁজ বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার উজিরপুরে জমি ইজারা নিয়ে বিরোধ, কৃষক-স্বজনদের ওপর হামলা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ অন্ধ ইউনুসের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, ১৯৮৮ সালে এইচএসসি পাস করে এখন বাদাম বিক্রি বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের সভাপতির ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অপচেষ্টা:শিক্ষক-কর্মচারীদের নিন্দা -প্রতিবাদ এক মাস পরেই সন্তানের মা হতেন, ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর পটুয়াখালীতে ভাড়া বাসায় বাসর সাজালেন দুই সমকামী যুবতী, এলাকায় চাঞ্চল্য সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারকালে ১৫ জনকে উদ্ধার প্রথমবার অধিনায়কত্ব, বরিশালকে বদলাতে চান ইফতেখার

অন্ধ ইউনুসের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, ১৯৮৮ সালে এইচএসসি পাস করে এখন বাদাম বিক্রি

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: একসময় হাতে ছিল বই-খাতা, চোখে ছিল স্বপ্ন। ১৯৮৮ সালে এইচ এস সি পাস করেছিলেন ইউনুস মীর। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দৃষ্টিশক্তি না থাকায়  এখন তিনি সবার কাছে পরিচিত ‘অন্ধ ইউনুস’ নামে। বয়স ৬০ পেরিয়েছে। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তাঁর ঠিকানা হয়েছে জরাজীর্ণ একটি ঘর। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মহাবাজ স্কুলের সামনে বসে বাদাম বিক্রি।

‎বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লামছরি গ্রামের মীরা বাড়ির বাসিন্দা ইউনুস মীর। নিজের বাড়ি থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে মহাবাজ স্কুলের সামনে প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করতে যান তিনি। সেখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে তাঁর দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা।

‎কিন্তু খাবারের চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা এখন তাঁর মাথা গোঁজার ঠাঁই। ইউনুস মীরের বসতঘরটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। ঘরের ওপরের টিনের অনেক অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও টিন ঝুলে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় তাঁকে।

‎দৃষ্টিশক্তি না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপনও তাঁর জন্য কঠিন। তারপরও কারও কাছে হাত না পেতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলের সামনে বসে বাদাম বিক্রি করেন। দিন শেষে কত টাকা আয় হবে, আদৌ পেট ভরে খাবার জুটবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

‎স্থানীয়দের কাছে ‘অন্ধ ইউনুস’ নামে পরিচিত এই মানুষটির সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা একটি নিরাপদ ঘর। আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর পাওয়ার আশায় তিনি বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। সংশ্লিষ্টদের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো তাঁর ভাগ্যে জোটেনি একটি নিরাপদ আশ্রয়।

‎একজন শিক্ষিত মানুষ হয়েও জীবনের শেষ সময়ে এসে দৃষ্টিহীন অবস্থায় বাদাম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর জরাজীর্ণ ঘরের দিকে তাকালে যেন ফুটে ওঠে দীর্ঘ জীবনের সংগ্রাম আর অবহেলার গল্প।

‎ইউনুস মীরের আকুতি, জীবনের বাকি দিনগুলো অন্তত যেন একটি নিরাপদ ঘরে কাটাতে পারেন। মাথার ওপর ঝুলে থাকা ভাঙা টিনের পরিবর্তে একটি শক্ত ছাদ, বৃষ্টি এলে পানি ঢুকবে না এমন একটি ছোট্ট ঘরই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

‎স্থানীয়রা মনে করেন, অসহায় ও দৃষ্টিহীন এই প্রবীণ মানুষের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়ার যোগ্যতা থাকলে যাচাই করে তাঁকে একটি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে জীবনের শেষ সময়ে অন্তত নিরাপদ আশ্রয় পেতে পারেন ইউনুস মীর।

‎এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদা সুলতানা বলেনঃ এরকম অসহায় মানুষের পাশে আমি সব সময় থাকার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি আমি জানতাম না যেহেতু জেনেছি আমি গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখছি।

‎একটি ঘর হয়তো কারও কাছে সামান্য একটি বিষয়, কিন্তু অন্ধ ইউনুসের কাছে সেটিই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ও স্বপ্ন।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network