লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় চুরির অপবাদে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের উপজেলার কচুয়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ইউএনওর কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থী জুবায়ের অভিযোগ করে, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কচুয়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ল্যাবে একটি বই খুঁজতে যায় সে। তবে বইটি না পেয়ে সেখান থেকে চলে যায় জুবায়ের। এ সময় ল্যাবের কোনো কেমিক্যাল বা অন্য কোনো সামগ্রী সে নেয়নি বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক জুয়েল হাওলাদার তাকে মাঠ থেকে ডেকে বিজ্ঞান ল্যাবে নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষক তার বিরুদ্ধে ল্যাবের সামগ্রী চুরির অভিযোগ তোলেন।
জুবায়ের অভিযোগটি অস্বীকার করলেও শিক্ষক তার কথা না শুনে তাকে মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে হাতে থাকা মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে তার মুখমণ্ডলে আঘাত করা হয়। এমনকি টেবিলের নিচে মাথা রেখে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, জুবায়েরের কয়েকজন সহপাঠী শিক্ষককে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি মারধর বন্ধ করেননি। পরে জুবায়ের জানতে পারে, বিজ্ঞান ল্যাবের সামগ্রী হারানোর ঘটনায় ওই শিক্ষকের ছেলে ও বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জাবেদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক জুয়েল হাওলাদার বলেন, ঘটনা সত্য। ছেলেটি বেয়াদবি করায় তাকে দুটি থাপ্পড় দিয়েছি। হাতে হোন্ডার চাবি থাকায় তার মুখে একটু দাগ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।