1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
সৌদিতে কিশোর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ‘অপরাধে’ তরুণের মৃত্যুদণ্ড - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

সৌদিতে কিশোর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ‘অপরাধে’ তরুণের মৃত্যুদণ্ড

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: কৈশোরে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং বিক্ষোভকারীর জানাজায় অংশ নেওয়ার অপরাধে সৌদি আরবে ইউসুফ আল-মানাসিফ নামে এক তরুণ মৃত্যুদণ্ডের মুখে।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অহিংস অপরাধে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের এটি আরেকটি চূড়ান্ত উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানবাধিকার সংস্থা ‘রিপ্রাইভ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে যখন ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। পরবর্তীতে তাঁকে গোপনীয় কাজের জন্য পরিচিত ‘স্পেশালাইজড ক্রিমিনাল কোর্ট’-এ বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সম্প্রতি দেশটির সুপ্রিম কোর্টও ইউসুফের এই সাজা বহাল রেখেছে। ফলে মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর শেষ আইনি আশাও আর রইল না।

একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জানায়, আটকের পর নির্যাতন চালিয়ে ইউসুফের কাছ থেকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো তাঁকে রাষ্ট্র মনোনীত আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়েছিল।

ইউসুফের পরিবার এখন চূড়ান্ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্রেপ্তার বা নিপীড়নের ভয়ে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না স্বজনেরা। ইউরোপীয়-সৌদি মানবাধিকার সংস্থার উপদেষ্টা দুয়া ধাইনি বলেন, পরিবারের কাছে এখন কেবল অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

২০২০ সালে সৌদি আরব একটি রাজকীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে নাবালক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অপরাধ করলে তাঁকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হবে না।

তবে বাস্তবে সেই আইনি সংস্কারের প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তুলছে বিভিন্ন সংস্থা। সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যারা অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে ১২ বছর বয়সে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আলী আল-সুবাইতি নামের এক তরুণ এবং তাঁর চাচা মুস্তফা আল-সুবাইতিকে কোনো প্রাণঘাতী অপরাধ না করা সত্ত্বেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও এর আগে ইউসুফের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অবিলম্বে ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে দেশটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা ‘ভয়াবহ’ হারে বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, গত বছর রেকর্ড ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই ছিলেন সামান্য মাদক সংক্রান্ত অপরাধের জন্য দণ্ডিত বিদেশি নাগরিক।

রিপ্রাইভের প্রতিনিধি দুয়া ধাইনি সৌদি সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকার নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন এবং তাদের নিয়ম না মানলে কঠোর পরিণতি হবে—তা বোঝানোর হাতিয়ার হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করছে। ১৮ বছর বয়সের আগে সংঘটিত অভিযোগের বিচার নাবালক হিসেবেই হওয়া উচিত, সেখানে মৃত্যুদণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

একইভাবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় করা অহিংস অপরাধে ইউসুফকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সৌদি আরবের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি ‘নজিরবিহীন অবক্ষয়’।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network