বামনায় ৩০ বছর পর পিতা-মাতার সাথে কথা হলো ছেলের !

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত মে ২৮ শুক্রবার, ২০২১, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
বামনায় ৩০ বছর পর পিতা-মাতার সাথে কথা হলো ছেলের !

বামনা(বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বাপ জান তুমি এতো দিন কইছিলা, তোমার জন্য ৩০টা বছর মোর চোহের জলে আচঁল ভিজাইছি।

 

এতোবছর পর তোমার মনে পড়লো মোগো। আম্মা আমারও কি কম মনে পড়েছিলো তোমাদের। তোমাদের সাথে কথা বলার জন্য অনেক ছটফট করেছি। কিন্তু কোন নম্বর বা কাউকে পায়নি যারা তোমাদের সাথে আমারে যোগাযোগ করাবে। আম্মা আমি এহন খুব বড় হয়েছি। আম্মা আমি বিয়ে করেছি।

 

এই দেখ তোমার বৌমা। এই দেখ তোমার দুই নাতনী। বৌমা নাতী তোমরা কেমন আছো। জীবনে প্রথম তোমাগো দেখলাম। তোমরা আসো আমার বুকে। এই বুকটা তোমাগো লইগ্গা বছরের পর বছর ফেটে যায়। বাপজান তুমি আবা এই আশায় প্রত্যেকদিন রাস্তায় দৌড়াইয়া যাইতাম। তুমি আর আইলানা।

 

এহন সবাইওে লইয়া একবার মোগো দেইখা যাও। আম্মা আমি আসবো করোনা পরিস্থিতি ভালো হলেই তোমাকে আর আব্বাকে দেখতে আসবো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটস অ্যাপে ৩০ বছর পরে খুজে পাওয়া ছেলে ও তার মা এর আবেগ আপ্লুত কথোপকথোন এগুলো।

 

সালমান খানের বিখ্যাত হিন্দি সিনেমা বজরাঙ্গী ভাইজানের মতোন ৩০ বছর পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজ বামনা উপজেলা কালেরকন্ঠ শুভসংঘ ও বামনা সংবাদের চেষ্টায় ছেলে খুজে পেলো তার বাবা, মা ও আত্মীয় স্বজনদের।

 

আজ গত বুধবার দুপুরে বামনা সংবাদের এডমিন মনোতোষ হাওলাদারের হোয়াটস অ্যাপে কথা বলেন হারিয়ে যাওয়া ছেলে মো. জালাল ও তার বাবা-মা। ৩০ বছরে অনেক বড় হয়েগেছে ছেলেটি। বিয়ে করে সংসারও গড়েছেন প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের কর্নাটক রাজ্যে। ফুটফুটে দুটি মেয়ে ও একটি ছেলের জনক এখন সেই জালাল। চাকরী করেন কর্নাটকের একটি বড় মাদ্রাসায়।

 

মনোতোষ হাওলাদার বলেন, গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে আমার পরিচালিত বামনা সংবাদ নামে একটি ফেসবুক পেজে একটি এসএমএস আসে। আমাকে একটি লোক সম্পর্কে জানতে চায়। আমি তাকে বলি সে কি হয় আপনার? তিনি বলেন আমার বাবা। তিনি আরো বলেন সে ৩০ বছর ধরে ভারতে আছেন। বাবামায়ের সাথে এতো বছর সে যোগাযোগ করতে পারেনি। যোগাযোগের কোন মাধ্যমও তিনি পাননি। তার পরিবারের সাথে একটু কথা বলিয়ে দেওয়া অনুরোধ করেন তিনি। এর পর আমিসহ কয়েকজন সদস্য তার পরিবারের খোঁজপাই এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হই। পরে আজ বৃহস্পতিবার ওই ছেলের সাথে পরিবারের কথা হয়।

 

স্থানীয়ও পরিবার সূত্রে জানাগেছে, বামনা উপজেলা সদরের কলাগাছিয়া গ্রামের আ, রব মিস্ত্রীর তিন ছেলে, বড় ছেলে জালাল, মেঝ ছেলে জাফর ও ছোট ছেলে ইব্রাহীম। প্রায় ৩০ বছর আগে বড় ছেলে জালাল লেখা-পড়ার উদ্যোশে পাড়ি জমায় পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে। সেখানে পৌছে সে আর কোন রকম যোগাযোগ করেনি পরিবারের সাথে। এভাবে কেটে গেছে ৩০টি বছর।

 

এব্যাপারে হারিয়ে যাওয়া জালালের বাবা আ. ওব মিস্ত্রী চোখে জলে একাকার হয়ে বলেন, বাবারা তোমাগো জন্য মোর পোলাডারে অনেক বছর পর আইজ দেখতে পাইলাম। ও বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও জানতাম না।

 

বাবা মাকে ছেড়ে ৩০ বছর ধরে ভারতে থাকা মো. জালাল আহম্মেদ বলেন, ছোট বেলায় ভারতে আসি। এরপ অভাব অনটনে দিনকাটে আমার। অনেক কষ্টে লেখাপড়া কওে এখন একটা ভালো চাকরী করছি। আমি আমার বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। আমার ছেলেকে দিয়ে ফেসবুকে বামনা উপজেলা সম্পর্কে খোজ নিতে বলেছিলাম। ছেলে খুজে বামনার একটি পেজ পায়। সেখানে আমি যোগাযোগ করার পরে তারা আমায় ৩০ বছর পর বাবা মায়ের মুখখানী দেখায় ও তাদেও সাথে ভিডিও কলে কথা বলায়। আমি কৃতজ্ঞ বামনা সংবাদের প্রতি।

 

বামনা সংবাদের অপর এডমিন গোলঅম রেদোয়ান রাব্বি তালুকদার বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে ওই পরিবারটির খোঁজ নিতে থাকি। অবশেষে পেয়েযাই তার বাবা-মাকে। ভিডিও কলে শুনি ৩০ বছরের অনেক নাবলা কথা। দেখতে পাই আবেগআপ্লুত চোখের জল।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]