মহামারী করোনায় ধূকছে বরিশালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ৯ শুক্রবার, ২০২১, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
মহামারী করোনায় ধূকছে বরিশালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

এম.কে. রানা ॥  মহামারী করোনায় সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বাদ পড়েনি বাংলাদেশের অর্থনীতিও। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান কোনমতে টিকে থাকলেও বেকায়দায় পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

 

বিশেষ করে ফুটপাত থেকে শুরু করে দেশের হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতো তারা পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। কেউবা আবার নিজস্ব ব্যবসা ছেড়ে অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন।

 

গত এক বছরের ধকল কাটিয়ে ওঠার আসায় আগামী ঈদকে সামনে রেখে নতুন করে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করলেও হঠাৎ করেই করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে এখন চিন্তার ছাপ। এক্ষেত্রে তাদের দাবী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরকারি প্রণোদনা প্রদানের।

 

 

রাস্তার পাশে ফুটপাতে শিশুদের পোশাক বিক্রেতা আল-আমিন বলেন, ৩ বছর পূর্বে সমিতি থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আয়-বাণিজ্য ভালই হচ্ছিল।

 

তবে গত বছর করোনা আঘাত হানার পর ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। সারাদেশে লকডাউন চলাকালীন তাদের যে বেচা-বিক্রি হয়েছে তা দিয়ে খেয়ে পড়ে কোনমতে বেঁচে আছেন। পুঁজিও প্রায় শেষের পথে।

 

ফুটপাতে কাঁচামরিচ নিয়ে দাড়িয়ে থাকা জামাল হোসেন জানান, এক সময় তিনি রাস্তার পাশে ডিম বিক্রি করতেন। করোনার কারণে লোকজন ফুটপাতের দোকান থেকে খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে এখন বিভিন্ন ধরণের কাঁচামাল বিক্রি করে কোনমতে ৫জনের সংসার খরচ চালাচ্ছেন।

 

ভ্যানের উপর কসমেটিক্সের পশরা সাজিয়ে বসেছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, করোনার কারণে গত একবছর ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। শুরুতে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও এখন তার পুঁজি ২০ হাজার টাকায় এসে দাড়িয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে তাকে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে দিনমজুরী কাজে নামতে হবে বলেন তিনি।

 

দর্জি ব্যবসায়ী রেজাউল বলেন, শুরুর দিকে তার দোকানে ৪জন কর্মচারী ছিল। করোনার কারণে ব্যবসা মন্দা হওয়ায় এখন তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে দোকান চালাচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনার কারণে এখন তিনি যে টাকা আয় করেন তাতে ঋণের কিস্তি, ঘরভাড়া দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর।

 

এদিকে মহামারী পরবর্তী কিছু ব্যবসা হয়তো আর কখনোই পুনরায় চালু হবে না বলে জানিয়েছে ‘গ্লোবাল ডিজাস্টার রিকভারি গ্রুপ (ডিআরআই)। সংস্থাটির মতে, করোনা সৃষ্ট সংকট পরবর্তী সমেয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে দুঃসময়ের মুখোমুখি হতে হবে। অনেকেই ব্যবসা পুনরায় চালু করতে পারবে না, বন্ধ হয়ে যাবে বহু প্রতিষ্ঠান।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংকট মোকাবেলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বড় বড় কোম্পানিগুলোকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাজের সময় ও দায়িত্ব পালনে সময়োপযোগী পরিবর্তন আনতে হবে এবং সংকট পরবর্তী পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

 

উল্লেখ্য হঠাৎ করেই মহামারী করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এখন পর্যন্ত বরিশালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২২৩ জন আর দেশে করোনায় মারা গেছে ৯ হাজার ৫শ’ ২১ জন। এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ৭৪ জনের। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৩২ জনে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃbarishalcrimetrace@gmail.com