বানারীপাড়ায় সরকারি কাজে বাঁধা সৃষ্টি, প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত জুন ২ বুধবার, ২০২১, ০৮:৪৪ অপরাহ্ণ
বানারীপাড়ায় সরকারি কাজে বাঁধা সৃষ্টি, প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি॥ বরিশালের বানারীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কাজে বার বার বাঁধা সৃষ্টি করছে একটি কুচক্রি মহল।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে.এ চক্রটি স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যেই ঘাপটি মেরে আছে। তারাই মূলত এই উপজেলায় যাতে করে উন্নয়ন কাজ না হয় সেই ফন্দি আঁটতে নানাভাবে মরিয়া হয়ে আছে।

সূত্রমতে ওই চক্রটিই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ, কলা গাছ থেকে বট গাছ এবং বট গাছ থেকে জোড়া বট গাছ বনে গেছেন।

বর্তমানে স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের শক্তির সরকার যখন বানারীপাড়া উপজেলাকে আলোকিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শাহে আলম বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন ঠিক তখনি ওই কুচক্রি মহল নানা অপতৎপরতায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

বানারীপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদ-গাহ্ সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং  পৌর শহরের দক্ষিণ নাজিরপুর থেকে বন্দর বাজারের ফেরীঘাট হয়ে উত্তরপাড় বাজার থেকে খেজুরবাড়ি আবাসন পর্যন্ত সন্ধ্যা নদীর তীরে শহর রক্ষা বাঁধের আদলে নির্মিত সড়কে প্রায় ১ শত মিটার একটি ব্রিজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময় ওই কুচক্রি মহল থেকে নামে- বেনামে  এলজিইডি’র প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বাঁধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ২ জুন বেলা ১১টায় বানারীপাড়ার সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন,সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

ফেরী ঘাটে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীলের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম ফারুক,সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান, উপজেলা ওয়াকার্সপার্টির সম্পাদক অধ্যাপক মন্টু লাল কুন্ডু,পৌর আওয়ামী লীগ ও বন্দর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু,আওয়ামী লীগ নেতা ডা. খোরশেদ আলম সেলিম প্রমুখ।

বক্তারা এসময় উন্নয়ন কাজে বাঁধা সৃষ্টিকারী কুচক্রিমহলের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য জননেতা মো. শাহে আলমের নেতৃত্বে উন্নত-সমৃদ্ধ আলোকিত বানারীপাড়া বির্নিমাণে সতীর্থ ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক অধ্যাপক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা,উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আ. জলিল ঘরামী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি  চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম,উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি এটিএম মোস্তফা সরদার,উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক এমএ ওহাব,উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদ হোসেন জুয়েল,বন্দর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান আশরাফী,ব্যবসায়ী আলহাজ্ব শামসুল আলম মল্লিক,দুলাল হোসেন,পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সাবেক কর্মকর্তা আশরাফ আলী ঘরামী,সড়ক ও জনপথের (সওজ) সাবেক কর্মকর্তা ইউসুফ আলী,বানারীপাড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র অধ্যাপক এমাম হোসেন ও মনিরা আক্তার ময়না,বানারীপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি রাহাদ সুমন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মু.মুন্তাকিম লস্কর কায়েস, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা, পৌর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক রিপন বনিক,উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি সুমম রায় সুমন,সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহম্মেদ রুথেন, শিক্ষক হায়দার আলী,পৌর ছাত্রলীগের সম্পাদক সজল চৌধুরী প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে পৌর শহরের বন্দর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত বানারীপাড়া পৌর শহরের বন্দরবাজারের ফেরীঘাট থেকে উত্তরপাড় বাজারের লঞ্চঘাটের পাশ দিয়ে এ ব্রিজটি নির্মিত হলে বানারীপাড়ার ধান-চালসহ ব্যবসা-বানিজ্যের হারানো অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ইতোমধ্যে সন্ধ্যা নদীর তীরে শহর রক্ষা বাঁধের আদলে দক্ষিণ নাজিরপুর গ্রাম থেকে বন্দর বাজার হয়ে উত্তরপাড় বাজার থেকে খেজুরবাড়ি আবাসন পর্যন্ত জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় কোটি টাকার ওপরে প্রাক্কলিত ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া ওই সড়কে দ’ুটি ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ফেরীঘাট-লঞ্চঘাটে প্রক্রিয়াধিন প্রায় একশ’ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ তৃতীয় ব্রিজটি নির্মিত হলে বন্দরবাজারের দক্ষিণ পাড় ও উত্তরপাড় বাজারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসারতা লাভ করবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]