রাজাপুরে ব্রিজের অ্যাপ্রোচ গার্ডার নির্মাণে অনিয়ম, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত জুন ৪ শুক্রবার, ২০২১, ০৬:১৮ অপরাহ্ণ
রাজাপুরে ব্রিজের অ্যাপ্রোচ গার্ডার নির্মাণে অনিয়ম, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাকরাইল (বলারজোড়) এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে নির্মাণাধীন ব্রিজের অ্যাপ্রোচ গার্ডার স্থাপনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এনিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে শ্রমিকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাকরাইল বাজার থেকে শ্রীমন্তকাঠি সড়কে (সাকরাইল বাজার সংলগ্ন) ব্রিজের নির্মাণকাজ চলছে। শুরু থেকে ব্রিজের কাজ ভালোভাবে করা হলেও শেষ পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ গার্ডার নির্মাণকাজে ফাঁকি দেয়া শুরু হয়। গার্ডারের জন্য নির্মিত ব্লক খুবই নিম্নমানের। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরাতে গেলেও তা ভেঙে যায়। স্লাবের মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনো সুরকি, খোয়া এবং রডের ব্যবহার হয়নি।

পিলারের নিচে স্লাব না দিয়েই বসানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে এ কাজে বাধা দিলে শ্রমিকরা কোনো কথা না শুনে তাদের মতো করে কাজ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে কাজ পরিদর্শক ও লেবার সরদার আশিষ পালিয়ে যান।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, রাজাপুর ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী সাকরাইল বাজার থেকে শ্রীমন্তকাঠি বাজারে সড়কপথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এটি। সাকরাইল বাজার, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীমন্তকাঠি বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সহজতম পথও এই ব্রিজ। এ কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও কয়েকশত যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে।

jagonews24

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) মনির জানান, ব্রিজের অ্যাপ্রোচ গার্ডার নির্মাণের জন্য বাজারের দুটি বড় শেড দখল করে স্লাব তৈরি করা হয়। এ কারণে দীর্ঘদিন শেড দুটি আটকা ছিল। সেখান থেকে স্লাব নিয়ে যখন স্থাপনের জন্য রাখা হয়, তখনই প্রতিটি স্লাব ভেঙে যায়। স্লাবের মধ্যে কোনো সুরকি, খোয়া এবং রড নেই। সিমেন্ট যা ব্যবহার করা হযেছে তা-ও প্রয়োজন অনুপাতে খুবই সামান্য।

সাতক্ষীরা থেকে আসা শ্রমিক আনন্দ মণ্ডল বলেন, ‘আশিষ ভাই আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলেছেন আমরা সেভাবেই কাজ করায় মেম্বর বাধা দিয়ে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লেবার সরদার আশিষ বলেন, আমাদেরকে কোম্পানির ব্যবস্থাপক মনির আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলেছেন আমরা সেভাবেই করেছি। তিনিই সব কিছু বলতে পারবেন। শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়রা কাজে বাধা দিলে আমরা কাজ বন্ধ করে দেই।’

তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ব্যবস্থাপক মনির।

ঠিকাদার বাদল দাবি করেন, ব্রিজ নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি হয়নি। স্লাব তৈরিতে মিস্ত্রিদের গাফিলতির কারণে হয়তো কিছু পরিমাণ ব্লকের মান খরাপ হয়েছে।

ঝালকাঠির স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী রহুল আমীন জানান, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]