কবুতর বেচে ভোলার নাজিম মাঝির মাসিক আয় ৪০ হাজার

Barisal Crime Trace -GF
প্রকাশিত জুন ২০ সোমবার, ২০২২, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
কবুতর বেচে ভোলার নাজিম মাঝির মাসিক আয় ৪০ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বন্ধুর পরামর্শে প্রায় চার বছর আগে ১০ জোড়া দেশি কবুতর দিয়ে খামার শুরু করেন ভোলার নাজিম মাঝি (৪০)। বর্তমানে তার খামারে আছে রেসার, মিলি, গিরিবাজ, রেছেকার, মাছি জাতের প্রায় ৮০ জোড়া কবুতর। আর এসব কবুতর বিক্রি করে তার মাসিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

 

নাজিম মাঝি ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সিলদার বাড়ির মো. আবুল সাত্তারের ছেলে। পেশায় জেলে হলেও কবুতরের খামারে ভাগ্য পরিবর্তন ঘটান নাজিম।

 

নাজিম মাঝি বলেন, ‘আগে মাছ ধরে সংসার চলত। যখন মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি হতো, তখন সংসার চালাতে হিমশিম খেতাম। চার বছর আগে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সময় তুলাতুলি মেঘনা নদীর তীরে বসে সংসার নিয়ে চিন্তা করছিলাম। এমন সময় বন্ধু ইয়ামিন হাওলাদার পাশে বসে চিন্তার কারণ জানতে চায়। সংসারের বিষয়টি জানানোর পর সে কবুতর পালনের পরামর্শ দেয়।

 

 

তিনি আরও বলেন, চারদিনের মাথায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে বসতঘরের সঙ্গে কবুতরের জন্য ঘর তৈরি করি। বিভিন্ন বাজার থেকে ১০ জোড়া দেশীয় কবুতর কিনে পালন শুরু করি। ছয় মাসের মধ্যে কবুতরে ঘর ভরে যায়। প্রথম বছরই ৫০-৬০ হাজার টাকার কবুতর বিক্রি করি। পরের বছর এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এভাবেই বাড়তে থাকে আয়। এখন অন্য জাতের কবুতরও পালন করছি।

 

 

নাজিম বলেন, বর্তমানে প্রতি মাসে কবুতরের খাবারের পেছনে ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর মাসে আয় হয় ৩০-৪০ হাজার টাকা। কবুতর বিক্রির টাকা দিয়ে একটি ট্রলারও কিনেছি। সেই ট্রলার নিয়ে মাঝে মধ্যে মাছ শিকারে যাই।

 

 

 

নাজিম মাঝির স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন, সংসারের কাজের পাশাপাশি স্বামীকে কবুতরের খামারের সহযোগিতা করছি। কবুতরের খামার দেওয়ার আগে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে অনেক কষ্ট হতো। খামার দেওয়ার পর থেকে কষ্ট নেই। বর্তমানে সংসারের কোনো অভাব নেই। অনেক ভালো আছি।

 

 

 

ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে নাজিমের মতো অনেক কবুতর খামারিকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বাণিজ্যকভাবে কবুতরের খামার করে সফল হয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]