পদ্মা সেতু : ঝালকাঠি থেকে ঢাকার দূরত্ব কমছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার

Barisal Crime Trace -GF
প্রকাশিত জুন ২১ মঙ্গলবার, ২০২২, ০৮:১৯ অপরাহ্ণ
পদ্মা সেতু : ঝালকাঠি থেকে ঢাকার দূরত্ব কমছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে ঝালকাঠি থেকে ঢাকার দূরত্ব কমছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে ঝালকাঠির মানুষ দৌলতদিয়া থেকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে আরিচা হয়ে ঢাকা যেতো। নব্বই দশক থেকে কাওড়াকান্দি-মাওয়া হয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঝালকাঠির মানুষ ঢাকার সায়েদাবাদ যাওয়া শুরু করে। তখন এ রুটে ফেরি ছিল সাতটি। আর এখন কোনো ফেরিই থাকছে না।

 

 

 

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন গণনার সাথে-সাথে উপকূলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঝালকাঠি জেলার পরিবহন ব্যবসায়ী বাস শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশার দেখা দিয়েছে। ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতিতে প্রায় ১০০ বাস রয়েছে। এ বাসগুলো নিয়মিত ঝালকাঠি-বরিশাল রুটে চলাচল করে। এ রুটের দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। এ ছাড়া আশপাশের দু-একটি রুটে বাসচলাচল করলেও সেখানে ট্রিপের সংখা খুবই কম। পদ্মা সেতু চালু হলে ঝালকাঠি থেকে ঝালকাঠি সমিতির বাস সরাসরি ঢাকা রুটে চলাচল করবে। এতে মালিকদের পাশাপাশি লাভবান হবেন শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন বেকার থাকা বাস শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

 

ঝালকাঠি জেলা সদর থেকে লঞ্চ বা বাসযোগে ঢাকা পৌঁছাতে সময় লাগতো ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা। আবার কখনও ফেরিঘাটে যানজটের কারনে সময় লেগে যেতো ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল শুরু হলে মাত্র ৫ মিনিটে বাসযোগে সেতু পাড়ি দিয়ে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে ঢাকা, এ যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো গল্প।

 

 

 

পদ্মা সেতু উদ্বোধন এবং এর ওপর থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হলে ঝালকাঠি জেলার বাস মালিক এবং শ্রমিকরা কিভাবে উপকৃত হবে সেই স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন জেলার পরিবহন সাথে যুক্তরা।

 

 

 

মো. লিয়াকত আলী তালুকদার, মেয়র ঝালকাঠি পৌরসভা ও সহসভাপতি জেলা বাস মালিক সমিতি ঝালকাঠি, তিনি বলেন- আমার বয়স বর্তমানে প্রায় ৭৬ বছর। ১২ বছর বয়স থেকে ঢাকা আসা-যাওয়া করি। আমি কল্পনাও করিনি পদ্মা নদীর ওপর থেকে গাড়িতে করে ঢাকা যাব। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় আজ যা স্বপ্নেও দেখি নাই, তা বাস্তবে দেখতে যাচ্ছি। ঢাকা যাওয়ার জন্য লঞ্চে এবং বাসে অনেক রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে অপেক্ষা করেছি ঢাকা যাওয়ার জন্য। অনেক সময় সারারাতও ফেরিঘাটে নির্ঘুম কেটে গেছে। সেই দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে ২৫ জুন।

 

 

 

বর্তমানে ঝালকাঠি জেলা বাস মালিক সমিতির বাস শুধু ঝালকাঠি-বরিশালসহ আশপাশের কম দূরত্বের রুটে চলাচল করে। পদ্মা চালুর পরে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির বাস ঢাকা রুটেও চলাচল করতে পারবে। গাড়ির বর্তমান মালিকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। বাসখাতে নতুন বিনিয়োগকারী অর্থলগ্নি করতে আসবেন। কারন বাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। নতুন আধুনিক বাস ঝালকাঠিতে যুক্ত হওয়ায় ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পাবে। শুধু যাতায়াতে সুবিধা নয়, ঝালকাঠি জেলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবেন। পদ্মা সেতুর কারণে এ জেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। জায়গা জমির মূল্য বৃদ্ধি পাবে। বেকারত্ব কমবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে। আগে বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকর্তারা বিশেষ করে বিদেশিরা পৌরসভা পরিদর্শনে আসতে ভয় পেতো নদী পাড়ি দেওয়ার কারণে। এখন তারা সড়ক পথে নিজস্ব গাড়িতে প্রকল্প পরিদর্শনে এসে আবার দিনে দিনে ফিরে যেতে পারবেন। এক কথায় এ জেলার ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করতে পারবে।

 

 

জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন মাহমুদ বাচ্চু বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে ঝালকাঠি জেলার সাধারণ মানুষের সাথে এ জেলার বাস মালিকরাও উপকৃত হবে। এখন আমাদের বাসগুলো শুধু লোকাল যাত্রী পরিবহন করে। সেতু চালু হওয়ার পর আমাদের সমিতির বাস ঢাকার পথেও যাত্রী পরিবহন করবে। এতে আমাদের মালিকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। ঢাকা- ঝালকাঠি রুটে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। রাতদিন ঢাকার পথে মানুষ আসা যাওয়া করবে। সে কারনে বাসের চাহিদা বাড়বে। নতুন-নতুন বিনিয়োগকারীরা যাত্রী পরিবহনখাতে অর্থ বিনিয়োগ হবে। বাস শ্রমিকদের বেকারত্ব দূর হবে। ঝালকাঠিবাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ভোর ৫ টায় বাস ছেড়ে সকাল সাড়ে নয়টা দশটার মধ্যে ঢাকায় পৌছানো যাবে। ঢাকায় যাত্রী নামিয়ে আবার দুপুরের মধ্যে যাত্রী নিয়ে রাতে বা সন্ধ্যায় বাসগুলো ঝালকাঠি ফিরে আসতে পারবে। এতে ঝালকাঠির যাত্রী, বাস মালিক এবং শ্রমিক সবাই লাভবান হবেন। শ্রমিক এবং মালিকদের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

 

 

 

ঝালকাঠি সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহাদুর চৌধুরী বলেন- স্বপ্নের সেতু পদ্মা সেতু চালু হলে ঝালকাঠি জেলার বাস শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পাবে। এখন ঝালকাঠির শ্রমিকরা শুধু দিনের বেলা ডিউটি করে থাকে। কারন রাতের বেলা আমাদের বাসগুলি বন্ধ থাকে। সেতু চালু হলে আমাদের রুটের বাসগুলো রাতেও ঢাকায় যাতায়াত করতে পারেব। সেতু চালু হলে সড়কপথে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী পরিবহনের খরচ কমবে, যার ফলে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমবে বলে আশা করা যায়। সেতুর কারনে ঝালকাঠি বাস টার্মিনালের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। বাস টার্মিনালের কারণে এই ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটবে। সূত্র : বাসস




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]