এক পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইউনিয়ন পরিষদ!


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : জুন ২২, ২০২২, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ /
এক পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইউনিয়ন পরিষদ!

স্টাফ রিপোর্টার, দুমকি : পটুয়াখালীর দুমকিতে ১৫ বছর যাবত এক পরিবারের চলার পথ অবৈধভাবে দখল করে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিষয়টি সুরাহা হচ্ছে না।

এ নিয়ে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও ১৫ বছর চলে গেছে শুধু চিঠি চালাচালিতে। বাধ্য হয়ে অন্যের জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অসহায় পরিবারটিকে।

এ বিষয়ে আবারো মঙ্গলবার ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দুমকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর চলাচলের পথ ফেরত পেতে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত সোবাহান হাওলাদারের মেয়ে পারভীন বেগম। দীর্ঘ ২৭ বছর আগে মা ও খালার কাছ থেকে পারভীন, ছেলে আকাশ ও স্বামী শহিদুল ইসলাম দলিল মূলে ৩ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে বসবাস করে আসছেন। শ্রীরামপুর মৌজার ১৩৭ খতিয়ানভুক্ত দাগে পারভীন বেগমের নানা ৬ শতাংশ জায়গা সাবেক ২নং লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদে দান করেন; বর্তমানে সেটি শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নামে পরিচিত।

তৎকালীন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল রশিদ গাজী পারভীন বেগমের বাসার সামনে ক্রয়কৃত খালি জায়গায় চলাচলের পথ রেখে জোরপূর্বক দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে তার আত্মীয়দের মধ্যে মাটি ভাড়া দেন। এ নিয়ে একাধিকবার দেন-দরবার করেও কোনো সুরাহা হয়নি।

পারভীন বেগম সপরিবারে বরিশালে বেড়াতে গেলে গত ২০১৩ সালের ৮ মার্চ পারভীন বেগমের চলাচলের পথে একটি আলগা দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। এ নিয়ে তখনকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় লোকজন এবং লোকাল সার্ভেয়ার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের জায়গার সীমানা নির্ধারণ করা হয়; যাতে চলাচলের পথের দোকান পাশের দুটি দোকান পারভীন বেগমের মালিকানা জায়গায় প্রমাণিত হয়। তবে পারভীন বেগম যায়গা পেলেও দখল বুঝে পাননি।

পারভীন বেগম অভিযোগ করেন, আমি এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। মূলত আমার স্বামী মো. শহিদুল ইসলাম খান বিএনপি করায় আমাদের চলাচলের পথে দোকানঘর নির্মাণ করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যখনই চলাচলের পথ নিয়ে স্থানীয় লোকজন কোনো সমাধানে পৌঁছে তখনই পেছন থেকে তথাকথিত কিছু আওয়ামী লীগের নেতারা যাতে আমরা পথ ফেরত না পেতে না পারি সে জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। এত বছর যাদের জায়গা দিয়ে চলাচল করতাম তারা এখন সেখানে বসতঘর তুলছে। এখন আমরা চলাচলের পথ না পেলে বাসাবাড়ি ছেড়ে ছেলে সন্তান নিয়ে রাস্তায় থাকতে হবে।

এ বিষয়ে মো. নাসির খান বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ নিয়ে দোকানঘর তুলেছি। দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিএনপি করায় তাদের অবরুদ্ধ করার বিষয়টি মিথ্যা এবং তারা যে জায়গা দাবি করেন সেটি ইউনিয়ন পরিষদের।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম সালাম বলেন, বিএনপি করায় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যে জায়গাটি তারা দাবি করছেন আসলে সেটি ইউনিয়ন পরিষদের। এতদিন তাদের হাঁটার বিকল্প পথ ছিল তাই বিষয়টি তেমন গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়নি। তবে এখন বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, ইতোমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে নিয়ে বসে সমস্যার সমাধান করা হবে।