বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন ভোলাবাসী

Barisal Crime Trace -FF
প্রকাশিত জুন ২২ বুধবার, ২০২২, ০২:৫৯ অপরাহ্ণ
বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন ভোলাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার, ভোলা : আর মাত্র দুই দিন পরই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু চালু হলে ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। সেতু খুলে দেওয়ামাত্রই দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পুরো দেশের যোগাযোগব্যবস্থা যেমন সহজ হবে তেমনি গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। এতে করে সৃষ্টি হবে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান। পদ্মা সেতু নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলার মতো ভোলার মানুষ স্বপ্ন দেখছেন নতুন করে।

এতো দিন ভোলার মানুষ উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে লঞ্চযোগে ঢাকায় যাতায়াত করতেন। ভোলায় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ লঞ্চযোগে ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে পাঠাতেন। পদ্মা সেতু চালু হলে লঞ্চের পাশাপাশি সড়ক পথেও পণ্য আনা-নেয়া করা যাবে। এছাড়াও পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে গ্যাস সমৃদ্ধ দ্বীপ জেলা ভোলায় নতুন নতুন শিল্প কারাখানা গড়ে উঠবে। এ দ্বীপজেলা ভোলা দেশের মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হতে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ভোলা-বরিশাল সেতু হলে যে কোনো সময় ভোলা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সহজে যাওয়া যাবে।

এদিকে, পদ্মা সেতু চালু হওয়া নিয়ে দ্বীপ জেলা ভোলাবাসীর মধ্যে আনন্দ উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য হাজার হাজার উৎসুক জনতা পদ্মার পাড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সবকিছু ছাপিয়ে স্থানীয়রা মনে করছেন, ভোলা-বরিশাল সেতু হলে দ্বীপের রানী ভোলা হবে বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর। তাই ভোলাবাসীর দাবি, দ্রুত ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ করা হোক।

এ বিষয়ে কথা হয় ভোলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে। তারা জানান, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ভোলাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিরামহীন এবং নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশে আর উত্তর-দক্ষিণ কোনো ভাগ থাকবে না। সব এক হয়ে যাবে। ভোলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক গতি আসবে।

বিশেষ করে অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা ভোলার মানুষের জীবনে পদ্মা সেতু বিশাল এক সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। ইতোপূর্বে ভোলার মানুষের কাছে সড়ক পথে পণ্য আনা-নেওয়ায় চরম সংকট ছিল। ফেরিঘাটে আটকে পড়ে মালামাল পচে যাওয়া বা দুর্যোগে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে সাধারণ যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। সেই সমস্যা আর থাকছে না।

ভোলা সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ জানান, পদ্মা সেতু চালু হলে ভোলায় উৎপাদিত পণ্য অতিদ্রুত ঢাকাসহ সারা দেশে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এজন্য এরই মধ্যে দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভোলায় বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে।

ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম হাবিবুর রহমান জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন। এরপর এবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের পালা। ইতোমধ্যে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই, সাইট সিলেকশন, জমি অধিগ্রহণসহ প্রাথমিক কিছু কাজ শেষ হয়েছে। আরও কিছু কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।

ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মমিন টুলু জানান, পদ্মা সেতুর কারণে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে। ভোলায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ রয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হলে ভোলায় অনেক শিল্প কল-কারখানা গড়ে উঠবে। কারণ তখন সড়ক পথে খুব সহজে এবং অল্প সময়ে মালামাল পরিবহন করা সম্ভব হবে।

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী জানান, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থার যে সুবিধা হবে এতে করে ভোলার অর্থ-সামাজিক, শিল্প খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। বিশেষ করে দ্বীপ জেলা ভোলায় পর্যটন শিল্প অতি দ্রুত বিকশিত হবে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]