চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ


Barisal Crime Trace -IS প্রকাশের সময় : জুন ২২, ২০২২, ৯:০৮ অপরাহ্ণ /
চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের উলিপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধুর নাম শ্রীমতি রত্নেরশ্বর রাণী (৫৫)। তিনি উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের কালুডাঙা পুটিগাড়ি বিল এলাকার সুজন চন্দ্র বর্মণের স্ত্রী।

স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবা গতরাত দেড়টার দিকে পৌর শহরের ডক্টরস ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত প্রসূতির স্বজন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে প্রসব বেদনা নিয়ে শ্রীমতি রত্নেরশ্বরকে ডক্টরস ক্লিনিকে ভর্র্তি করায় স্বজনরা। পরে ক্লিনিকের মালিক ডা. লোকমান হাকিম ও ডা. নজরুল ইসলাম প্রসূতিকে অপারেশন রুমে নিয়ে সিজার করেন। এর কিছুক্ষণৈর মাথায় দায়িত্বরত নার্স একটি মেয়ে বাচ্চা নিয়ে এসে স্বজনদের দেখান।

রাত একটার দিকে চিকিৎসক প্রসূতির ফুফাতো ভাই রতন চন্দ্র বর্মনকে একটি ওষুধ আনতে বাজারে পাঠান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রতনকে ফোন করে ক্লিনিকে ডাকা হয়। পরে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পথিমধ্যে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

প্রসূতির ফুফাতো ভাই রতন চন্দ্র বর্মন বলেন, সিজার করার পর প্রসূতি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তবুও ডাক্তার আমাদের কিছু জানায়নি। পরে রাত একটার দিকে ডাক্তার ওষুধ লিখে দেয়। সেটি আনার জন্য বাজারে যাই। পরে ক্লিনিক থেকে আমাকে ফোন করা হয়। এসে দেখি অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে রংপুর পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওই অ্যাম্বুলেন্সে ক্লিনিকের দুজন কর্মচারীসহ আমরা রওনা দেই। পথিমধ্যে পাশ্ববর্তী রাজারহাট উপজেলা পার হওয়ার পর আমার বোন মারা গেলে তাৎক্ষণিক গাড়ি থেকে নেমে ক্লিনিকের লোক দুজন সটকে পড়েন। সিজারের সময় নবজাতকের মাথা কেটে যায়। ডাক্তারের অবহেলায় তার বোনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ডক্টরস ক্লিনিকের মালিক ডা. লোকমান হাকিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অপারেশনের পর রোগীর হেচকি শুরু হয় এবং হঠাৎ করে পেশার বেড়ে যায়। আগে রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়নি। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকে রংপুরে প্রেরণ করা হয়। পরে রাস্তায় তিনি মারা যান। প্রসূতির মৃত্যুর পর ক্লিনিকের দুইজন কর্মচারী গাড়ি থেকে সটকে পরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।