পটুয়াখালীতে মামলা করে বিপাকে প্রবাসী নারী


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : জুন ২৩, ২০২২, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ /
পটুয়াখালীতে মামলা করে বিপাকে প্রবাসী নারী

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীতে শিশু সন্তান ও বৃদ্ধ বাবার ওপর হামলায় ঘটনায় মামলা করে বিপাকে পড়েছে এক প্রবাসী নারী। সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হওয়ার পরে আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাদী আজমিন কাজীর ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীর গ্রামের বাড়িতেও হামলার প্রস্তুতি নেয় অভিযুক্তরা। এ খবরে সেখানে গলাচিপা থানা পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় এমন ঘটনায় ঘটে। বুধবার পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে হাজির হয়ে এমন অভিযোগ করে সিঙ্গাপুরে থাকা ওই নারী। অভিযুক্ত এনায়েত সওদাগরের বিরুদ্ধে লুট-মামলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

আজমিন কাজী জানান, গত ১৭ জুন তার শিশুপুত্র আলিফ স্কুলে যাওয়ার সময় দেখতে পায়, তাদের একটি গরু প্রতিবেশী এনায়েত সওদাগর জোর করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় আলিফ কারণ জানতে চাইলে এনায়েত গং আলিফকে এলোপাতাড়ি কিলঘুসি মারতে মারতে মাটিয়ে লুটিয়ে ফেলে ও আলিফের গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে।

ঘটনাটি দেখতে পেয়ে আজমিন কাজীর বৃদ্ধ বাবা সেরাজ কাজী দেখে এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে এনায়েত। তাদের ডাকচিৎকারে বাদীর বৃদ্ধ মা জোসনা বেগম বাড়ি থেকে আসলে তাকেও মারধর করেন এনায়েত। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সেরাজ কাজী ও তার সন্তান আলিফকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ১৮ জুন এনায়েতসহ তিনজনকে আসামি করে গলাচিপা থানায় মামলা করে প্রবাসী আজমিন।

আজমিন আরও জানান, তিনি দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। প্রবাসী হওয়ার তার তিন শিশু সন্তানকে তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কাছে রাখতে হচ্ছে। গত ৫ জুন তিনি দেশে আসছেন।

এদিকে মঙ্গলবার গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনে যান আসামিরা। ওই দিন বিকালে আদালতের কাজ শেষ করে বাদী আজমিন মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিল। বাড়ি পৌঁছানোর পূর্বে মুরাদনগর ব্রিজ এলাকা অতিক্রমকালে এনায়েত সওদাগরসহ ৪-৫ যুবক আজমিনের ওপর হামলা করে টানা-হেঁচড়া করে গায়ের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে এবং বিভিন্নভাবে শরীরে আঘাত করে।

এ সময় মাসুদ রানা নামে এ্যানাসিফ্যাক কোম্পানির প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আজমিনকে উদ্ধার করে মোটরসাইকেলযোগে পটুয়াখালী পৌঁছে দেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাসুদ রানা জানান, কাজ শেষে রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর দিকে ফিরছিল। মুরাদনগর পৌঁছাতে দেখেন ৪-৫ যুবক এক নারীকে টানা-হেঁচরা করছে। এ সময় মাসুদ দূরে দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য মোবাইলে ধারণের প্রস্তুতি নিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

অপরদিকে বুধবার বিকালে পুনরায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আজমিনের বাড়িতে গিয়ে তার বৃদ্ধ বাবাকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়েছেন বলে মোবাইল ফোনে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার ওসি শওকত আনোয়ার বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা গাঁ ঢাকা দেয়। এর আগের অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, কিন্তু পায়নি।