ভোলার প্রথিতযশা সাংবাদিক হাবিবুর রহমানকে সংবর্ধনা

Barisal Crime Trace -FF
প্রকাশিত জুন ২৩ বৃহস্পতিবার, ২০২২, ০৪:২১ অপরাহ্ণ
ভোলার প্রথিতযশা সাংবাদিক হাবিবুর রহমানকে সংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টার, ভোলা : ৭০’এর ভয়াল জলোচ্ছাস ও মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসিক অন্যন্য সচিত্র প্রতিবেদক ভোলার প্রথিতযশা সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. হাবিবুর রহমানকে ভোলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বুধবার রাতে ভোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সম্প্রতি এম হাবিবুর রহমান বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২১ পাওয়ায় এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। প্রেসক্লাব আয়োজিত সংবর্ধনা সভার প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিক ই-লাহী চৌধুরী সংবর্ধনা সভায় প্রবীণ সাংবাদিক এম হাবিবুর রহমানকে গোল্ডেন স্বারক, ক্রেস্ট এবং উত্তরীয় প্রদান করেন । এ সময় তাকে সাংবাদিক ও টিভি ক্যামেরা জানালিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে ফুল , সম্মাননা স্মারক ও মানপত্র দেয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভোলার গুনি শিল্পীরা গানের মধ্য দিয়ে সংবর্ধিত ব্যক্তিকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ এম. ফারুকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম, ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দোস্ত মাহমুদ, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার শফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব। এ সময় ভোলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিক ই-লাহী চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক এম. হাবিবুর রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি যেন আজ আলোকিত মানুষদের একখ আলোকিত ভোলায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, যে সমাজে গুণীর কদর করা হয় না সেখানে গণী জন্মায় না। ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক এম. হাবিবুর রহমানকে যে সম্মান জানানো হয়েছে তা সাংবাদিকদেরকে অনুপ্রাণিত করছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম. হাবিবুর রহমানকে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদান করায় বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন এধরণের আয়োজন করে তৃণমূলের সাংবাদিকদের সম্মান জানালে আগামীতে মফস্বল থেকেও জাতীয় মানের সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব বেরিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ অপু হাবিবুর রহমানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো তুলে ধরে বলেন, সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব এম. হাবিবুর রহমান ১৯৪৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ভোলা শহরের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এম. হাবিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে ১৯৬৮ সালে দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার ডেক্স রিপোর্টার হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। ১৯৭০ সালের ১২ নবেম্বর ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সংবাদ ” কাঁদো বাঙালী কাঁদো, ভোলার গাছে গাছে ঝুলছে লাশ” শিরোনামে তার সংবাদ ৪ দিন পর পূর্বদেশ পত্রিকায় ছাপা হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পর রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ জানতে পারেন। এরপর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ভোলায় পাকহানাদার বাহিনীর টর্চার সেলের কাছাকাছি গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর করা অত্যাচার নির্যাতনের ছবি তুলেছিলেন। যা পরবর্তীতে পূর্বদেশ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। তার সেই লেখা স্বাধীনাতা যুদ্ধের ইতিহাসের সপ্তম খন্ডে ছাপা হয়েছে।

হাবিবুর রহমান ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ বেতারে যোগ দিয়েছেন। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদক। এরপর ১৯৯৪ সালে ভোলা থেকে “দৈনিক বাংলার কণ্ঠ” নামে একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে নিয়মিত সাংবাদিকতা করছেন বাংলাদেশ বেতারে। ১৯৭২ সাল থেকে দীর্ঘদিন ভোলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত এক যুগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। হাবিবুর রহমান ছিলেন মুসলিম ইনস্টিটিউট এন্ড পাবলিলাইব্রেরির সম্পাদক। পাশাপাশি ছাত্রজীবনে দক্ষিণাঞ্চলে ফুটবলার হিসেবেও খ্যাতির শিখরে ছিলেন হাবিবুর রহমান। সাংবাদিকতায় অর্ধশত বছর পূর্ণ করার গৌরব অর্জন করায় এ বছর তিনি বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২১ লাভ করেন।

উল্লেখ্য, এম হাবিবুর রহমানের একমাত্র পুত্র সন্তান হাসিব রহমান দৈনিক জনকণ্ঠের ভোলা নিজস্ব সংবাদদাতা হিসাবে দক্ষতার সাথে র্দীঘ প্রায় ২ যুগ ধরে সাংবাদিকতা করছেন।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]