৫ জনের মৃত্যু! লকডাউনে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বরিশালের মানুষ

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত এপ্রিল ১০ শনিবার, ২০২১, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
৫ জনের মৃত্যু! লকডাউনে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বরিশালের মানুষ

বরিশালক্রাইমট্রেস ডেস্কঃ করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ‘লকডাউন’ (অবরুদ্ধ অবস্থা) উপেক্ষা করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরেছে বরিশালের মানুষ। লঞ্চ ও দূরপাল্লার বাস সার্ভিস ছাড়া শুক্রবার বাকি সবকিছুই চলেছে স্বাভাবিক নিয়মে। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানপাট খুলেছে এদিন। অপরদিকে ‘লকডাউন’ বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা এবং বাজার নজরদারিতে নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।

‘লকডাউন’-এ বরিশালের বাজারঘাট আগে থেকেই খোলা ছিল। প্রসাধনী ও পোশাক ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল দোকান খুলে দেওয়ার। সরকার শুক্রবার থেকে সারা দেশে শপিংমলসহ দোকানপাট খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় নগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র চকবাজার, কাঠপট্টি, সদর রোড ও গির্জা মহল্লার সব দোকান খুলেছে। পোশাক, প্রসাধনীসহ অন্যান্য দোকানগুলোয় কিছুক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা করার চেষ্টা করলেও অনেকাংশে উপেক্ষিত ছিল।

সূত্রমতে, বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ১০২ ব্যক্তি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই ও উপসর্গ নিয়ে তিনজন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে বিভাগে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২২৩ জনে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতরা হলেন : বরিশাল নগরীর নিউ সার্কুলার রোড এলাকার দেলোয়ার হোসাইন (৮২) ও পটুয়াখালীর বাউফলের শামসুল হক (৭০)। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন, বরিশাল নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দার আফরোজা (৪৮), নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের আ. ছত্তার (৭০) ও ঝালকাঠির রাজাপুরের গোরস্থান রোডের বাসিন্দা ফুলবানু (১০০)। মৃতদের মধ্যে শামসুল হক ছাড়া সবাই বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক সংক্রমিত হয়েছে ঝালকাঠি জেলায়। এ জেলায় ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া ভোলায় ১৮, পিরোজপুরে ১৭, পটুয়াখালীতে ১৫, বরিশালে ১৪ ও বরগুনায় ১৩ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এ নিয়ে ১৩ মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে বরিশালে ৫ হাজার ৫৬১, পটুয়াখালীতে এক হাজার ৮৯৪ জন, পিরোজপুরে এক হাজার ৩৬৬, ভোলায় এক হাজার ৩০৩ জন, বরগুনায় এক হাজার ১২২ জন এবং ঝালকাঠিতে এক হাজার চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে সুস্থ হয়েছেন মাত্র ২০ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৭৬৭ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছে এক হাজার ৪৮৩ জন। আক্রান্তরা হাসপাতালে ও নিজ বাসায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিভাগে মোট মারা গেছেন ২২৩ জন। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় সর্বোচ্চ ৯৫ জন, পটুয়াখালীতে ৪৬, পিরোজপুরে ২৭, বরগুনায় ২২, ঝালকাঠিতে ২০ ও ভোলায় ১৩ জন মারা গেছেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস সবাইকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ে বরিশাল বিভাগে সংক্রমণের হার কম ছিল। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের হার বেশি। তাই টিকা গ্রহণকারীসহ সবাইকেই স্বাস্থ্য নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে হবে।

অপরদিকে শুক্রবারও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর বাজার রোড ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মাস্কবিহীন তিন ব্যক্তিকে ১০০ করে ৩০০ টাকা জরিমানা করা ছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নানা পরামর্শমূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]