বিয়ের আসর থেকে ওয়ারেন্টের আসামি গ্রেপ্তার

Barisal Crime Trace -FF
প্রকাশিত জুলাই ৩ রবিবার, ২০২২, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বিয়ের আসর থেকে ওয়ারেন্টের আসামি গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার, মঠবাড়িয়া : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের পর নামের বিভ্রাটের অজুহাতে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঘটনাটি ফাঁস হলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় বিয়ের আসর থেকে ফের ওই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরের বহেরাতলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ওই দিন গভীর রাতে ছেড়ে দেয়া হয়।

নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আমুরবুনিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে প্রবাসী রাসেল ওরফে বাবু (৩০) ২০১২ সালে সিলেটের একটি মারামারি মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই ওয়ারেন্ট নিয়ে বাবু পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এমনকি দীর্ঘ কয়েক বছর প্রবাসে থেকে সাম্প্রতি বাড়িতে আসেন। এদিকে ওয়ারেন্ট তামিল করতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া থানার এসআই কামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকা থেকে তাকে আটক করে থানা হাজতে রাখেন। পরে রহস্যজনক কারণে গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় জনমনে পুলিশ সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়ায় শুক্রবার বিকেল উপজেলার বড়শৌলা গ্রামের বিয়ের আসর থেকে তাকে ফের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বাবু ওরফে রাসেল তালুকদার উপজেলার আমরবুনিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে ও তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদারের ভাগিনা।

তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদার জানান, তার ভাগিনা রাসেল সাম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার তার বিয়ের দিন ধার্য থাকায় আমি মানবিক কারণে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু রাতে থানার ওসি আমাকে জানায় রাসেলের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। পরে জানতে পারি পার্শ্ববর্তী ধানীসাফা ইউপি চেয়ারম্যান বাবু নামে প্রত্যয়ন দেয়ায় আমার ভাগিনাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ধানীসাফা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হারুন তালুকদার প্রত্যয়ন দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওই ব্যক্তির নাম যে রাসেল তা তার জানা ছিল না।

মঠবাড়িয়া থানার এসআই কামরুল ইসলাম জানান, ওই ব্যক্তিকে রাসেল নামে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ধানীসাফা ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যয়ন দিয়েছেন ওই ব্যক্তি বাবু। নামে মিল না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা: নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, নামের বিভ্রাটের কারণে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই করে ওই ব্যক্তিকে শুক্রবার বিকেলে ফের গ্রেফতার করা হয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]