ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন আরেক শিক্ষার্থী

Barisal Crime Trace
প্রকাশিত জুন ৬ রবিবার, ২০২১, ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ
ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন আরেক শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর আজিমপুরে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার থেকে মরদেহ উদ্ধার করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ইশরাত জাহান তৃপ্তির মৃত্যুর কারণ জানিয়েছেন সাফায়াত আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি তৃপ্তিকে বাসা থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি নেত্রকোনায়।

তৃপ্তির (২১) বাড়িও নেত্রকোনায়, আটপাড়ায়। তার বাবার নাম আলতাফ মিয়া। ইশরাত জাহান ঢাবির ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ফজিলাতুন্নেসা হলে থাকতেন। কিন্তু হল বন্ধ থাকার কারণে তিনি তার এক বান্ধবীকে নিয়ে ওই কোয়ার্টারের ১৮ নম্বর ভবনের নিচতলায় সাবলেটে ভাড়া থাকতেন।

আরও পড়ুনঃ আজিমপুরে বাথরুমে মিললো ঢাবি ছাত্রীর লাশ

সাফায়াত গণমাধ্যকে বলেন, শনিবার বিকালে দোকানে যাওয়ার সময় তৃপ্তি বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল। আগে থেকেই তার অ্যাজমা (হাঁপানি) ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে শরীর খারাপ লাগায় গতকাল সে আর বাসা থেকে বের হয়নি। পরে রাতে যখন রুমের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, সে তখন ওয়াশরুমে যায়। ঠিক কখন সে ওয়াশরুমে গিয়েছিল, তা কেউ বলতে পারছে না।

তিনি আরও জানান, ভোরের দিকে রুমমেটরা সাড়াশব্দ পায়, কিন্তু বাথরুমটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। আমি অন্য জায়গায় থাকি। ইশরাতের রুমমেট ও সহপাঠী রাহনুমা তাবাসসুম রাফি আমাকে ফোন দিলে আমিও সেখানে যাই। পরে ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে ৭টার দিকে অজ্ঞান অবস্থায় তৃপ্তিকে বাথরুম থেকে বের করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টারের একটি বাসায় আজ রবিবার সকালে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসাটির বাথরুম থেকে তাকে উদ্ধার করার পর হাসপাতালে নিলে, চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফায়ার সার্ভিসের পলাশী ব্যারাক ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল সোয়া ৭টার দিকে খবর পেয়ে আজিমপুরের পলাশী সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার ইউনিট ২-এর ১৮ নম্বর ভবনের নিচতলায় একটি রুমের বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে অচেতন অবস্থায় থেকে উদ্ধার করা হয় ইসরাত জাহানকে। এরপর দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, দুজন শিক্ষার্থী মিলে স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলায় একটি বাসায় সাবলেট ভাড়া থাকতেন। সকালে তুষ্টির রুমমেট ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো দেখতে পায়। তবে ভেতরে কলের পানি পড়ছিল। এরপর ওই রুমমেট ৯৯৯-এর মাধ্যমে আমাদের খবর দিলে, পরে ওই বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি বাথরুমের ভেতরে পড়ে মারা যেতে পারেন বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তিনি শনিবার (৫ জুন) বৃষ্টিতে ভিজেছিলেন। এ ছাড়া তার ঠান্ডার সমস্যা ছিল বলে জানতে পেরেছি।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]