ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে থাকবে বাড়তি চাপ

Barisal Crime Trace -FF
প্রকাশিত জুলাই ৭ বৃহস্পতিবার, ২০২২, ০৪:৩৫ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে থাকবে বাড়তি চাপ

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ঈদযাত্রায় যাত্রীরা ঝুঁকছেন সড়কপথের দিকে। ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে বাসের টিকিট পেতে শেষ মুহূর্তে দৌড়ঝাঁপ করছেন তাঁরা। বাসের মালিক ও শ্রমিকদের ধারণা, পদ্মা সেতুর কারণে এ বছর সড়কপথে যাত্রী হবে আগের বছরের কয়েক গুণ। যদিও এই চাপ সামলাতে মহাসড়ক সংস্কারের উদ্যোগ এখনো নেয়নি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যে কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন পরিবহন সেক্টরের শ্রমিক, চালকসহ সাধারণ যাত্রীরা। তবে ঈদে ঘরমুখী মানুষকে নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য টহল জোরদার করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

ঢাকা-বরিশাল রুটে নিয়মিত বাসে চলাচল করেন উন্নয়ন সংগঠক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এখন মহাসড়কে চলাচলে সময় কমে গেছে। যে কারণে সড়কপথেই বাড়ি ফিরতে অধিকাংশের ঝোঁক। এই ঈদে অনেকে প্রাইভেট কারে বরিশালে আসবেন। নতুন বাসেও আসবেন। অনেকে আবার যৌথভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে আসবেন। কিন্তু বরিশাল থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৩০টি বাঁক আছে। এগুলো সোজা না করায় দুর্ঘটনা বাড়তে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় মহাসড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় ঈদে যানজট সৃষ্টি হবে। এ ক্ষেত্রে সড়ক প্রশস্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং থ্রি-হুইলার মহাসড়ক থেকে অপসরণ জরুরি।

রাজধানীতে চাকরি করা বরিশাল নগরের বাসিন্দা মেহেদী হাসান জানান, তিনি বাসেই চলাচল করেন। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এই ঈদে চাপ বাড়ছে। ঘটতে পরে দুর্ঘটনা। টিকিট পাওয়াও কঠিন। তাই লঞ্চে আসবেন।

বিআরটিসি বাসের চালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর এই মহাসড়ক আর আগের মহাসড়কের ব্যস্ততায় বিস্তর ফারাক। এখন প্রতি মুহূর্তে বাস, ট্রাক ও প্রাইভেট কার ছুটছে। কিন্তু মহাসড়ক যেভাবে প্রস্তুত থাকা দরকার, তা নেই। সরু মহাসড়কের পথে পথে বাঁক। অনেক স্থানেই অবৈধ স্থাপনা। তার ওপর তিন চাকার যান চলাচলে এই ঈদে মহাসড়কে ঝুঁকি বাড়ছে।

সাকুরা পরিবহনের বরিশালের ব্যবস্থাপক আনিচুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় আগের চেয়ে চাপ বেশি। ঈদে দিন রাত তাঁদের পরিবহন থাকবে এই রুটে। যে কারণে টিকিট বুকিং এখনো চলছে।

নথুল্লাবাদ বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এবার যাত্রী চাপ কয়েক গুণ বাড়ছে। বাসের সংখ্যাও বেড়েছে। গ্রীন লাইনসহ বিভিন্ন কোম্পানির নতুন বাস ঢুকেছে। এ অবস্থায় মহাসড়ক প্রশস্ত করা দরকার। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়ক থেকে থ্রি-হুইলার না সরালে দুর্ঘটনা বাড়বে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বরিশালের অংশে সড়ক সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখেননি তাঁরা।

যদিও সম্প্রতি এক সভায় বরিশাল নগরের মধ্য দিয়ে যাওয়া ১২ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণে তাগিদ দেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রকৌশলী এ কে এম আজাদ। তিনি বৈঠকে জানান, এই মুহূর্তে মহাসড়ক সংস্কারের অর্থ বরাদ্দ তাঁদের নেই। ফোর লেন হওয়ার আগে তাঁরা এ মহাসড়কে বড় ধরনের সংস্কারও করতে চান না। এর জবাবে মেয়র সাদিক জানতে চান, পদ্মা সেতু চালুর আগেই কেন মহাসড়ক প্রশস্ত করা হয়নি?

এদিকে আসন্ন ঈদ ঘিরে ঘরমুখী মানুষকে নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য মহাসড়কে নজরদারি বৃদ্ধিসহ, যানজট মুক্ত রাখা, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ টহল জোরদার করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বেল্লাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে নজরদারি বৃদ্ধি করেছেন তাঁরা। মহাসড়কে চলাচলকারী কোনো গাড়ি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া থামানো যাবে না। বিশেষ কারণ ছাড়া ঈদের আগের ও পরের মোট সাত দিন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় মোটরসাইকেল চলাচল করা যাবে না। মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনে দিন-রাত হাইওয়ে পুলিশ সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে স্পিডগানের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।




আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বরিশাল ক্রাইম ট্রেস”কে জানাতে।
ই-মেইল করুনঃ[email protected]