পাওনাদারকে ‘অপহরণকারী’ বলে পুলিশে সোপর্দ!


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২২, ২:৩৭ অপরাহ্ণ /
পাওনাদারকে ‘অপহরণকারী’ বলে পুলিশে সোপর্দ!

স্টাফ রিপোর্টার, দুমকি : পটুয়াখালীর দুমকিতে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে উল্টো ‘অপহরণকারী’ বলে আব্দুল মতিন (৩৫) নামে এক  যুবককে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এ ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী আলমগীর হোসেন হাওলাদার (৬০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার পাগলার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক আলমগীর হোসেন জানান, মাগুরা জেলার শালিখা থানার বাসিন্দা আব্দুল মতিন মোল্লার বেশ কয়েক বছর আগে ঢাকায় পরিচয় হয় উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মোতাহার প্যাদার ছেলে মো. হায়দার আলী প্যাদার সঙ্গে। একপর্যায়ে মতিনকে রেলওয়ের চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাত লাখ টাকা নেয় হায়দার আলী। টাকা নিয়ে হায়দার আলী দুমকি সাতানীর সেলিম নামে একজনকে দেয়। বেশ কিছুদিন পার হলেও চাকরির কোনো খবর নেই।

বাধ্য হয়ে মতিন ও হায়দার আলী মিলে লোকজন নিয়ে সেলিমকে একটি বাসায় আটক করেন। পরে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে সেলিমের কবলাকৃত ৩২ শতাংশ জায়গা মতিনকে না দিয়ে হায়দার আলীর একার নামে লিখে নেন। টের পেয়ে মতিন জায়গার কথা বললে তাকে তার পাওনা টাকা দিয়ে দেবে বলে আশ্বাস দেন হায়দার। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও কোনো টাকা দেওয়ার নামও মুখে নেন না হায়দার। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনার আমিও একজন মধ্যস্থতাকারী। আজ টাকা দেওয়ার তারিখ ছিল। কিন্তু হায়দার আমাদের কোনো ফোন না ধরায় মতিন তার বাড়িতে যান টাকা চাইতে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে হায়দার আলীকে একটি মাহেন্দ্রা গাড়িতে উঠিয়ে লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসার পথে হায়দার গাড়িতে বসে ডাক-চিৎকার করলে লেবুখালীর পাগলার মোড় এলাকায় লোকজন অপহরণকারী বলে মতিনকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আটক আলমগীর লেবুখালী ইউনিয়নের কার্ত্তিকপাশা গ্রামের বাসিন্দা। আব্দুল মতিন জানান, আজ আমি পথের ফকির। চাকরির জন্য সাত লাখ টাকা দিয়ে চাইতে এসে উল্টো লোকজন আমাকে অপহরণকারী বলে পুলিশে দিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনায় হায়দার আলী প্যাদার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অপহরণচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।

হায়দার আলী প্যাদার স্ত্রী আসমা বেগম টাকা পাওনার কথা অস্বীকার করে বলেন, তারা আমাদের কাছে কোনো টাকা পাবে না। তারা আমার স্বামীর কাছে দীর্ঘদিন যাবত চাঁদা দাবি করে আসছেন। টাকা না দেওয়ায় আজ অপহরণের চেষ্টা করা হয়।

দুমকি থানার ওসি আবদুস সালাম বলেন, আসলে বিষয়টি অপহরণ না। তবে তাদের মধ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন রয়েছে। এ বিষয়ে হায়দার আলীর পরিবার একটি অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।