বাড়ছে বাজার খরচ, সংকটে দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২২, ৮:০৮ অপরাহ্ণ /
বাড়ছে বাজার খরচ, সংকটে দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে জেলেদের জীবনযাত্রায়।

 

 

তারা বলছেন, বছরে দুইবার মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। অনেক সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণেও মাছ ধরতে পারেন না। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাদের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

১০ বছর ধরে জেলে পেশায় জড়িত পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্য বন্দরের এফ বি জিদনী ট্রলারের রহমাতুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘যা আয় করি তাতে পরিবার নিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছি। তেলের দাম ও বাজার খরচ অনেক বেশি। এখন আমাদের মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।

 

 

 

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাছ ধরার প্রতিটি ট্রলার ৮-১২ দিন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে অবস্থান করে। একেকটি ট্রলারে ১০-১৫ জন জেলে থাকেন।

 

 

অবস্থানকালীন প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও সরঞ্জামাদি নিতে প্রতিবার সমুদ্রযাত্রায় একটি ট্রলারের খরচ প্রায় আড়াই থেকে চার লাখ টাকা। তবে মাছ বিক্রির পর খরচ বাদ দিয়ে তারা যে পরিমাণ টাকা পাচ্ছেন তা খুবই কম।

 

 

 

এফবি আল-মামুন ট্রলারের মাঝি আরিফ বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ পর তীরে আসছি। চার লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। তার মধ্যে তেল ও বাজার খরচ বাবদ খরচ হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। খরচ বাদে একজন স্টাফ মাত্র ৪০০ টাকা পেয়েছেন। তাহলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?

 

 

 

এফবি আব্দুল্লাহ ট্রলার মালিক ফারুক হোসেন বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আমাদের খরচ বাড়ছে কিন্তু আয় বাড়ছে না। ছয় মাস আগে যে ট্রলারের বাজার খরচ ছিল দুই লাখ টাকা এখন তা তিন লাখে ঠেকেছে। বছরে ৬৫ দিন ও ২২ দিনের দুটি নিষেধাজ্ঞা। বৈরী আবহাওয়া তো কতবার হয় তার ঠিক নেই। সবমিলিয়ে মৎস্য পেশায় আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি।

 

 

 

আলীপুর মৎস্য বন্দর আড়তদার সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘জেলে পেশা এমনিতেই হুমকির মুখে। এর উপরে এখন দ্রব্যমূল্যের যে অবস্থা তাতে এই পেশা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। প্রতিবছর অনেক জেলে ঋণের বোঝা নিয়ে পালিয়ে যান। এবছরও ব্যবসায়ীদের পালিয়ে যাওয়ার অবস্থা তৈরি হচ্ছে।

 

 

সমুদ্রে যদি পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়া যায় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম না টানা যায় তাহলে দেশে মৎস্য পেশায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে বলে মনে করেন আড়তদার সমিতির নেতা।

 

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৮ হাজার ৩০০ নিবন্ধিতসহ মোট ৩০ হাজার জেলে রয়েছেন, যার ৮০ শতাংশই সারাবছর শুধু জেলে পেশার ওপর নির্ভরশীল।