এক ডুবেই ৫২ মিনিট পানির নিচে থাকতে পারে নাঈম


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৩, ২০২২, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ /
এক ডুবেই ৫২ মিনিট পানির নিচে থাকতে পারে নাঈম

স্টাফ রিপোর্টার, ইন্দুরকানী : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর বিস্ময়কর বালক মো. নাঈম হোসেন পানিতে ডুবে ৫২ মিনিট অবস্থান করায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার পত্তাশী এলাকার রফিকুল হাওলাদারের পুত্র মো. নাঈম হাওলাদার (১৯) একাধারে ৫২ মিনিট পানির নিচে অবস্থান করেন। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক। তাকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা কৌতূহল।

এলাকাবাসী মনে করেন- এটি একটি বিস্ময়কর ঘটনা। তার এ কর্মকাণ্ড বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাংবাদিক, সমাজকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে দেখতে এসে ভিড় জমাচ্ছেন।

নাঈম জানান, আমি গরিব বিধায় অভাব অনাটনের সংসারের কারণে লেখাপড়া তেমন করতে পারি নাই। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করার পর আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই আমি বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমি এক বছর আগে থেকেই পানিতে ডুবে থাকার এ অভ্যাসটি করেছি। এ পর্যন্ত কয়েকবার প্রদর্শনীমূলক ডুব দিয়ে থেকেছি।

তিনি বলেন, সর্বশেষ বুধবার পত্তাশী জনকল্যাণ হাই স্কুল মাঠসংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পুকুরে শত শত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ডুব দিয়ে ৫২ মিনিট পানির নিচে অবস্থান করেছিলাম। আমার ডুব দেওয়ার সময় আমার সঙ্গে পরনে একটি লুঙ্গি, গায়ে একটি গেঞ্জি ও একটি গামছা থাকে। ডুব দেওয়ার স্থানে চার খণ্ড বাঁশ ব্যবহার করি। এছাড়াও আমি ৩৪ মিনিটে সাড়ে ৮ কিলোমিটার দৌড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছেছি। ছোটবেলা থেকেই আমি এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনা দেখানোর চেষ্টা করছি। বর্তমানে আমি নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছি।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ডা. মো. ইউনুস আলী জানান, রফিকুলের ছেলে নাঈম এলাকায় নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সে পেশায় একজন শ্রমিক হলেও তার কর্মকাণ্ডে তিনি এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

নাঈমের পিতা মো. রফিকুল হাওলাদার জানান, আমার ৭ সদস্যের অভাবের সংসার। সংসারের খরচ জোগাতে আমি ফেনীতে দীর্ঘদিন স’ মিলের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় আমি ছেলেমেয়ে নিয়ে এলাকায় এসে ভ্যান চালাই এবং মাঝে মধ্যে স্থানীয় স’ মিলে কাজ করি। আমার চার ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে নাঈম ছোটবেলা থেকেই একটু অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝোঁক।