বিদেশ থেকে ফিরে মাল্টা চাষ, এলাকাবাসীর অনুপ্রেরণা হাবিবুর


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২২, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ /
বিদেশ থেকে ফিরে মাল্টা চাষ, এলাকাবাসীর অনুপ্রেরণা হাবিবুর

স্টাফ রিপোর্টার, আমতলী : ১৫ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করে বাজিমাত করেছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া গ্রামের বিদেশফেরত শৌখিন কৃষক হাবিবুর রহমান মাতুব্বর। এলাকায় তিনি এখন একজন সফল এবং স্বাবলম্বী কৃষক হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া তার বাগানে আম লিচু, লেবু, কলা ও পেঁপে চাষের পাশাপাশি রয়েছে পুকুর ভর্তি নানা প্রজাতির মাছ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় করছে তার বাগানটি দেখার জন্য।

হাবিবুর রহমান মাতুব্বর বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত সৌদি আরবে ছিলাম। ২০১৫ সালে দেশে ফিরে এসে ভাবছি কী করব। ওই সময় মুঠোফোনের ইউটিউব চ্যানেলে মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী হওয়া এক চাষির সফলতার গল্প শুনি। তখনই সিদ্ধান্ত নিই মাল্টা চাষ করার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়ির পাশের ১৫ বিঘা ধানের জমির মাটি কেটে উঁচু করার কাজ শুরু করি। এরপর জমি তৈরি করে পাঁচ হাজার মাল্টার চারা এনে রোপণ করে তার পরিচর্যা করতে থাকি। শুরুটা শখের হলেও আমি এখন পুরোপুরি কৃষক হয়ে গেছি। যাকে বলে শৌখিন কৃষক। ’

তিনি বলেন, ‘মাল্টাগাছ রোপণের এক থেকে দেড় বছরের মাথায় গাছে অল্প কিছু ফল আসে। সেই ফল বিক্রি করে আমার প্রায় এক লক্ষ টাকা আয় হয়। বছর বছর আমার বিক্রি বাড়তে থাকে। কারণ প্রতিবছর আমার মাল্টাবাগানে ফলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এভাবে আমি গত চার বছরে বাগান থেকে অন্তত ১২ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। এ বছরও বাগানে যে পরিমাণ ফল ধরেছে তাতে আশা করি চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারব। ’

এলাকার একাধিক কৃষক ও প্রতিবেশী জানান, শৌখিন কৃষক হাবিবুর রহমান মাতুব্বর দীর্ঘ সময় বিদেশে কাটিয়েছেন। এখন দেশে এসে মাল্টা চাষ করে একজন সফল কৃষক হয়েছেন। এটা আমাদের কাছে অনেক গর্বের বিষয়।

কথা হয় একই ইউনিয়নের রায়বালা গ্রাম থেকে বাগান দেখতে আসা কৃষক হারুন অর রশিদের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার পার্শ্ববর্তী গ্রামে একটি মাল্টার বাগানের কথা শুনে আমি তা দেখতে এসেছি। আমিও ছোট পারিসরে একটি মাল্টার বাগান করতে চাই। সে জন্য কৃষক হাবিবুর রহমান মাতুব্বরের পরামর্শ নিতে এসেছি। ’

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সি এম রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, ‘শৌখিন কৃষক হাবিবুর রহমান একজন সফল মাল্টা চাষি। তার এই সফলতায় কেওয়াবুনিয়া গ্রামসহ আশপাশের অনেক কৃষক এখন তার দেখাদেখি তাদের বসতবাড়িতে নানা জাতের ফল চাষ করছেন। আমাদের কৃষি অফিস থেকে তাকেসহ অন্যান্য কৃষককে ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ’