কর্মক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ কাজ সফলতা আনে : এসএম জাকির হোসন


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২২, ৮:২১ অপরাহ্ণ /
কর্মক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ কাজ সফলতা আনে : এসএম জাকির হোসন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : তুমুল উত্তেজনাকর ম্যাচে ৩-০ গোলে ইউরোগ্রীণ একাদশকে কুপোকাত করে চ্যাম্পিয়নশিপ ঘরে তুললো ইউরো অরেঞ্জ একাদশ। আর এর মাধ্যমে ফুটবল মাঠে অরেঞ্জ দল সবার সেরা প্রমাণ করলো আরো একবার। এমনকি তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল দাতাও এই দলের। ফলে ফুটবলের মাঠের সাথে নৈপূন্যতার ইতিহাসটাও হাতছাড়া করেনি দলটি। শুক্রবার (০২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত আউটার স্টেডিয়ামে মেঘ-বৃষ্টি আর রোদের খেলার মধ্যে শেষ হলো ইউরো ফুটবল টুর্ণামেন্টের এবারের জমজমাট আসর।

খেলা শুরু হয় সকাল ১০টায়। প্রথম দুটি সেমি ফাইনালে নিজেদের ফাইনালে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালায় ইউরো অরেঞ্জ, রেড, ব্লু এবং গ্রীন একাদশ। এরমধ্যে ১০ টার ম্যাচে অরেঞ্জ একাদশ ৩-০ গোলে রেড একাদশকে পরাজিত করে। ১১ টার ম্যাচে ব্লু ২-০ গোলে গ্রীণ একাদশকে পরাজিত করে তালিকার বাইরে ফেলে দেয়।

এরপরই মূলত শুরু হয় ফুটবলের মাঠের আসল লড়াই। ঠিক তখন বেলা ১২টা। ইউরো ফুটবল টুর্নামেণ্ট-২০২২ এর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রতাপশালী দুই টিম মাঠে নামে। শুরু হয় মাঠ এবং মাঠের বাইরে উত্তেজনা। রেফারির বাঁশি বেজে ওঠার সাএথ সাথে রক্ষণভাগ ঠিক রেখে উভয়দল পরস্পরকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করে বুহ্য ভাঙার চেষ্টা করছিল। সবকিছুই ঠিকমত চলছিল মাঠে। তবে আগের ম্যাচে হ্যাট্রিক গোল দিয়ে ফুটবলকে বশ করা রুবেল জ্বলে ওঠে প্রথমার্ধের শেষ অংশে। চারজন খেলোয়ার কাটিয়ে হাই কিক দিয়ে সরাসরি গোল পোস্টের জালে জড়ান বল। এরমধ্য থেকে অনেকটা চাপে পরেন ইউরো ব্লু একাদশ। সেই চাপ আরো বাড়িয়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অরেঞ্জ একাদশের মিড ফিল্ডার আলামিন সাগর।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি গোল জালে জড়ান তিনি। এতে করে গোল ঠেকানোর সকল প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে ব্লু একাদশের। শেষে আক্রমণভাগ ছেগে দিয়ে গোলের সংখ্যা আর না বাড়াতে রক্ষণভাগে জমে যায় সব খেলোয়ার। যদিও শেষার্ধের শেষ পর্যায়ে পর পর তিনবার আক্রমণের সুযোগ পায় ব্লু একাদশ। তবে সেই আক্রমণ এতটাই দুর্বল ছিল যে একাই হাত পেতে বল আটকে দেন অরেঞ্জের গোল রক্ষক। সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে ব্লু একাদশ যখন কোন গোলই দিতে পারছিল না ঠিক তখনই বেজে ওঠে রেফারি আবুল বাশারের বাঁশি। এরমধ্য থেকে উল্লাসে ফেটে পড়েন চ্যাম্পিয়ণ একাদশ ইউরো অরেঞ্জ একাদশ।

মাঠের লড়াই শেষে চার টিমের সাথে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন ইউরো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন। তিনি বলেন, মাঠের খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও মূলত আজকে মাঠে লড়াই করা সকল একাদশের খেলোয়াররা একই সুঁতোয় গাঁথা। মাঠে আজকে আপনারা যেভাবে পরস্পরের সহচার্যে খেলেছেন আমি মনে করি ইউরো গ্রুপে যে যে সেক্টরে কাজ করেন সেখানে সহকর্মীদের সাথে এভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।

তাহলেই ইউরো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। কাজের ক্ষেত্রে কেউ কাউকে প্রতিপক্ষ ভাবলে কখনোই সফল হওয়া যাবে না। পরস্পরের ঈর্ষা, ইগো পরিহার করতে হবে। ইউরো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমি হলেও আমি মনে করি এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক মূলত এখানের দশটি সেক্টরে কর্মরত কর্মীরা। তিনি সকলের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।

এরপরে খেলা পরিচালনাকারী সুনামধ্যন্য রেফারি এবং ফুটবল কোচ আবুল বাসার, লাইন্সম্যান মনির হোসেন এবং মোহাম্মদ আলী মন্টুর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ইউরো গ্রুপের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। পর্যায়ক্রমে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় রানার আপ ইউরো ব্লু একাদশের হাতে। এরপরপরই আসে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ।

ইউরো অরেঞ্জ একাদশের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন ইউরো গ্রুপের প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা রাকিব বাইয়্যানি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নাছেফ কামাল, দৈনিক মতবাদ এর যুগ্ম সম্পাদক হেনরী স্বপন, ইউরো গ্রুপের একাউন্স জিএম এনামুল হক, এইচআর এ্যাডমিন পিয়াল বাবলু, প্রধান বিপনন কর্মকর্তা রেজাউল হক রেজা, একাউন্স ম্যানেজার জায়িদি হাসান রাজিব, এ্যাপেক্স ফটুওয়্যারের ম্যানেজার খন্দকার মানিক, ইউরো কনভেনশন হলের ম্যানেজার নাসির উদ্দিনসহ কর্মকর্তাবৃন্দ।

টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইউরো ডিজিটাল ক্যাবল টিভি ও ইউরো ডিজিটাল ফেসবুক পেইজে। ধারা বর্ণণায় ছিলেন ইমন, সৈয়দ মেহেদী হাসান। সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে সুব্রত সঞ্জীব। খেলায় অংশ নেওয়া সকল একাদশকে, অতিথিবৃন্দকে এবং ইউরো গ্রুপের অন্যান্য কর্মীদের দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়।