বোরহানউদ্দিনে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ /
বোরহানউদ্দিনে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

স্টাফ রিপোর্টার, বোরহানউদ্দিন : আমন রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার বোরহানউদ্দিনের চাষিরা। অল্প জমিতে বেশি ফলনের জন্য পরিবেশ সহিষ্ণু উচ্চফলনশীল শস্যের জাত গ্রহণ করছেন তারা। এছাড়া পর্যাপ্ত সার, কীটনাশক মজুত থাকাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে ঝুকছেন আমন চাষে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উপশী এবং ২ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এজন্য বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯২০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১২১০ হেক্টর। ইতোমধ্যে তাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮০ ভাগ পূরণ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বড় মানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক মালেক ৩, এছহাক আলী ২ ও রেশাদ আলী ১ একর জমিতে আমন চাষ করেন। প্রায় ৭০ ভাগ রোপণ করা হয়েছে। তাদের কাছে জনপ্রিয় জাত হলো ব্রি-ধান ৫২ এবং বিআর ২২। ফলন বেশি, চাল লম্বা ও মোটা। সার ও কীটনাশক কম লাগে। এছাড়া ব্রি ধান ৫০, ৭৩, ৭৫, ৭৬, ৭৮, ৮৯, ৯৩, ৯৫ বিনা ধান-১৭, ২০ এবং স্থানীয় কার্তিক সাইল, মধুমালতি, সাদা মোটা, সাদা চিকন, রাজাসাইল, কাজল সাইল, কালিজিরা ধানের চাষ হবে বলে জানান।

কুতুবা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের চাষি অহিদ সর্দ্দার জানান, তিনি ৩ একর, মোতাহার আড়াই একর ও জলিল দেড় একর জমিতে চাষ করেন। তারা বলেন, সার, ওষুধে সমস্যা হয় না। তা-ছাড়া কোনো সমস্যার পড়লে কৃষি অফিসার তাকে সহযোগিতা করেন।

বড় মানিকা বাটামারা গ্রামের কৃষানি সুমাইয়া বেগম বলেন, ১ একর জমিতে তিনি এবার আমন আবাদ শুরু করছেন। সাচড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বর্গাচাষি হরজন আলী (৫৫) জানান, ৪ একর জমিতে তিনি বিআর-২২ জাতের ধান রোপণ করেছেন।

টবগী ইউনিয়নের নুর হোসেন হাওলাদার, কাচিয়া ইউনিয়নের উত্তম কুমার দাস, পক্ষিয়া ইউনিয়নের নাছির, হাবিবুল্যাহ জানান, তারা আউশের চেয়ে আমন চাষ বেশি করেছেন। চলতি বছর ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় তারা আমন চাষে আগ্রহী হন। এছাড়া ব্রি-৫২ জাতের ধানটি জলসহায়ক এবং বেশি ফলন দেয় বিধায় তারা আমন চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন।

সাচড়া ৬ নং ওয়ার্ডের বাথান বাড়ির কৃষক শহিদুল মীর বলেন, ১০ একর জমির মধ্যে জোয়ারের আগে ২ একর রোপণ করি। পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে রোপণকৃত ধানের অর্ধেক নষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের ইউসুফ কাজি জানান, চলতি মৌসুমে ৪ একর জমিতে আমনের চারা রোপণ করবেন ৷

উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার ফিরোজ আলম, কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রনি, খায়রুল আলম মুন্সি জানান, তাদের ব্লকগুলোতে কৃষকরা ইতোমধ্যে প্রায় ৭৫ ভাগ জমিতে চারা রোপণ করেছেন। ব্রি-৫২ ধানটি জলসহিষ্ণু ও বিআর-২২ আলোক সংবেদনশীল, ফলন ভালো বিধায় তারা কৃষকদের এটা চাষে পরামর্শ দিয়েছেন। এ দুটোর হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৫ টনের বেশি বলে জানান।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এইচএম শামীম বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি সামনে রেখে আমাদের উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। তাই স্থানীয় জাত পরিহার করে, নতুন নতুন আধুনিক জাত নির্বাচন করতে হবে। উৎপাদনকে নিরাপদ করতে আধুনিক চাষাবাদের দিকে এগোতে হবে।