পটুয়াখালীতে ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল থেকে দুই রোগীকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ, পরে ফেরত


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২, ১২:১১ অপরাহ্ণ /
পটুয়াখালীতে ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল থেকে দুই রোগীকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ, পরে ফেরত

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীতে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র ছাড়াই দুই রোগীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুমকি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার সকালে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এবং ওই দুই রোগীর অবস্থান অবনতি হওয়ায় তাঁদের আবার হাসপাতালে রেখে আসা হয়েছে। ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল থেকে তুলে আনার কথা স্বীকার করেছেন দায়িত্বরত এসআই।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী দুই রোগী হলেন— দুমকী উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান এবং তাঁর ছোট বোন ওই মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ফজিলাতুন্নেছা। তাঁরা যথাক্রমে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ড এবং নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট বেলা ১১টায় দুমকি উপজেলা উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার সামনে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষের মধ্যে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত পূর্ব বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আহত অধ্যক্ষ মাওলানা কাজী শাহ জালালকে প্রথমে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর উপাধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান এবং তাঁর ছোট বোন ফজিলাতুন্নেছাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার অফিস সহকারী মাওলানা মোহেব্বুল্লাহ বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে দুমকি থানায় মামলা করেন।

উপাধ্যক্ষ মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকেও পটুয়াখালী আদালতে গত ১ সেপ্টেম্বর মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় আদালত দুমকি থানাকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে আজ সকালে দুমকি থানার এসআই মামুন সিভিল পোশাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ৩৩নং বেডে চিকিৎসাধীন উপাধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান ও নারী ওয়ার্ডে ১২নং বেডে চিকিৎসাধীন ফজিলাতুন্নেছাকে পটুয়াখালী থানায় নিয়ে যান। সেখানে আধা ঘণ্টা রেখে আবার হাসপাতালে রেখে যান।

এ ব্যাপারে উপাধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘সকালে হঠাৎ করেই একজন সাদা পোশাকের পুলিশ আমার বেডে এসে বলে, আপনি একটু বাইরে আসুন, ওসি সাহেব আপনার সঙ্গে কথা বলবে। বাইরে বের হলে আমাকে জোর করে একটি অটোরিকশায় তুলে পটুয়াখালী সদর থানার গোল ঘরে নিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার পর আমি অসুস্থ হয়ে সেখানের বেঞ্চে শুয়ে পড়ি। পরে বিভিন্ন জনে আমার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ফোন করলে পুলিশ আমাকে এবং আমার বোনকে আবার হাসপাতালে রেখে যায়।’

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে দায়িত্বরত এসআই মামুন বলেন, ‘দুমকির একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বিরোধের জেরে গত ৩১ আগস্ট যে ঘটনা ঘটে ওই ঘটনায় চারজনের নামে মামলা হয় এবং আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ওই মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না বলে ওপর থেকে চাপ দিচ্ছিল। তখন ওসি স্যারে বললেন, (আসামিরা) পটুয়াখালী হাসপাতালে আছে। তাই সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালে আসি, তখন ডাক্তারেরা কেউ ছিল না। কর্মচারীরা বলল, আজ শুক্রবার, ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। তাই তাদের নিয়ে সদর থানার সামনে ফটোকপি করতে যাই এবং থানার গোল ঘরে পুলিশ দিয়ে বসিয়ে রাখি। পরে আবার হাসপাতালে দিয়ে আসি।’

ছাড়পত্র ছাড়া দুই জন রোগীকে হাসপাতাল থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যেতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই মামুন বলেন, ‘ছাড়পত্র ছাড়া তো আমি কোর্টে চালান করতেই পারব না। তাই তাদের আমার সঙ্গে নিয়ে একটু ফটোকপি করতে গিয়েছিলাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি শুনেছি এবং তাঁকে (এসআই মামুন) বলেছি, ছাড়পত্র পেলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নিয়ে আসতে। কিন্তু ছাড়পত্র ছাড়া আনতে বলিনি। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউকে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে।’