বিশিষ্টজনদের নিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন ব্যারিস্টার ছিদ্দিকুর রহমান


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ /
বিশিষ্টজনদের নিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন ব্যারিস্টার ছিদ্দিকুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের খ্যাতনামা আইনজীবী, রীট ও সাংবিধানিক মামলার বিশেষজ্ঞ, বরিশালের কৃতিসন্তান ব্যারিস্টার এ.বি.এম ছিদ্দিকুর রহমান খান বরিশালে গ্রামের বাড়িতে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন। এতে বরিশাল জামে এবাদুল্লাহ মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মির্জা নুরুর রহমান বেগ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন।

বাকেরগঞ্জের কালিদাসিয়া গ্রামে শনিবার দুপুরে এই জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবীব, বরিশাল বারের সভাপতি এ্যাড. লস্কর নুরুল হক, শেবামেক এর প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম ইকবালুর রহমান সেলিম, বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন খন্দকার, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের পরিবর্তন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী মিরাজ মাহমুদ,

দৈনিক আজকের পরিবর্তনের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এম এম আমজাদ হোসাইন, বরিশাল অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল বাণী’র সম্পাদক মোঃ মামুন-অর-রশিদ, বরিশাল বাণীর সিনিয়র রিপোর্টার এস এম সেলিম, বরিশাল আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিটের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন, চরামদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন খোকন, ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিক (বাসেল), আরিফুর রহমান, চরামদ্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মামুন আল রশিদ সোহাগ সহ এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারতের পর সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও দোয়া মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম উপস্থিত ছিল।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার ছিদ্দিকুর রহমান বড় বড় রিট মামলা পরিচালনা, সাংবিধানিক জটিলতা সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা, আইন বিষয়ক জার্নালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আর্টিকেল উপস্থাপন, বহুসংখ্যাক ইসলামী প্রবন্ধ রচনা সহ নানান মাধ্যমে দেশ, মানবতা ও ইসলামের সেবায় যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছেন। পেশাগত জীবনে সততার সাথে কাজ করে তিনি এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের কালিদাসিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোঃ ওয়াজেদ আলী খান এবং মাতার নাম তজুমুন্নেসা। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চম সংশোধনী মামলায় বাদীপক্ষের অন্যতম আইনজীবী হিসেবে তিনি তাঁর মেধার সাক্ষর রাখেন। সেই মামলায় বাংলাদেশের সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এবং সে সময়ের সকল আইনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়াও তিনি আইন ও ধর্ম বিষয়ক প্রবন্ধ লেখায় অভ্যস্থ। তাঁর বহু প্রবন্ধ আইন বিষয়ক রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। Doctrin of Condonation: An Emerging Principle in the Constitutional Jurisprudence in Bangladesh.শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার পর আইনজীবী মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ব্যারিস্টার এ বি এম ছিদ্দিকুর রহমান খান ২০০৭ সালে Assistant Attorney General, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক এবং বহুবার Deputy Attorney General হিসেবে যোগদান করার প্রস্তাব পেয়েও ব্যাক্তিগত কারণে এসব পদ গ্রহে করেননি। ব্যারিস্টার এ.বি.এম ছিদ্দিকুর রহমান খান চরামদ্দি দাখিল মাদরাসা হতে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিভাগে দাখিল, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত আলিয়া মাদরাসা হতে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিভাগে আলিম, ১৯৮৮ খিধস্টাব্দে প্রথম বিভাগে ফাযিল এবং ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শ্রেণিতে কামিল হাদীস পাস করেন।

ছারছীনা মাদরাসায় অধ্যায়নকালে তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের দেয়ালিকা সম্পাদনা, সাহিত্য মজলিস পরিচালনা এবং লেখালেখির মাধ্যমে প্রতিভার সাক্ষর রাখেন। ছারছীনা দরবারের মুখপত্র ‘পাক্ষিক তাবলীগ’ পত্রিকার সম্পাদকীয় লিখতেন তিনি। মাদরাসা শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে এলএলবি অনার্স এবং ১৯৯৫খ্রিস্টাব্দে এলএলএম পাস করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি জজকোর্টের এ্যাডভোকেটশীপ সনদ এবং ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে হাইকোর্ট বিভাগের এ্যাডভোকেটশীপ সনদ লাভ করেন।

১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লন্ডন গমন করেন। সেখানে পুনরায় এলএলবি সম্পন্ন করে ২০০১ খ্রিস্টাব্দে ব্যারিস্টারি কোর্সে ভর্তি হয়ে ২০০২ খ্রিস্টাব্দে Lincoln’s Inn থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিন বছর লন্ডনে অবস্থান করে দেশ-বিদেশের রাজনীতির উপর পড়ালেখা করেন। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করে প্রথিতযশা আইনজীবী আজমালুল হোসাইন কিউসি এর জুনিয়র হিসেবে যোগদান করে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন মামলায় কিউসি সাহেবকে গবেষণাসহ দিকনির্দেশনামূলক সহযোগিতা প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে আইন ব্যবসা করছেন।