ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই শিক্ষার্থীদের নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা!


ebdn প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ /
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই শিক্ষার্থীদের নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : কেন্দুয়া উপজেলার ১২নং আমতলা রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের রাজনগর গ্রাম। এই রাজনগর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে সুতি নদী। এই সুতি নদী পারাপারের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো । এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়েই জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা স্কুল ব্যাগ, খাতা কলম নিয়ে পার হচ্ছে। অন্যান্য সাধারন মানুষও এই সাঁকো  দিয়ে পার হলেও সুতি নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মানের দাবি আজ গণমানুষের এক দাবীতে পরিনত হয়েছে।

এলাকাবাসীর পক্ষে রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা মনকান্দা এম ইউ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একে এম মহিবুল্লাহ জানান, ওই সুতি নদীর ওপর একটি ব্রীজ নির্মানের অভাবে তাদের শিশু শিক্ষার্থীরা যেমন রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলতে হয়, তেমনি গ্রামের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষি পন্য বাজারজাত করতেও কঠিন সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন। কৃষকরা সেতুর অভাবে তাদের কৃষি পন্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সুতি নদীটির উত্তর পারে ১৯৩৮ সালে স্থাপিত রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ইউনিয়নের মডেল ক্লাস্টার হিসেবে উন্নিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনগর ও রোয়াইলবাড়ি গ্রামের শিক্ষার্থীরাই বেশি। বর্ষা এলে আরো দূর্ভোগ বেড়ে যায়। কলা গাছের ভেলায় অথবা ডিঙি নৌকায় চড়ে বিদ্যালয়ে আশা যাওয়া করতে হয়।

এলাকাবাসী আরো জানান, সুতি নদীর উপর একটি সেতু নির্মানের জন্য বার বার তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি করে আসলেও সে দাবি স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও পূরণ হচ্ছেনা। তারা বলছেন, এই নদীর উপর একটি ব্রীজ হলেই পাল্টে যাবে এলাকার দৃশ্যপট। ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলে, নদীর দক্ষিন পারে তার বাড়ি। বিদ্যালয় থেকে তার বাড়ির দূরত্ব কয়েকশ গজ। বাড়ির কাছাকাছি বিদ্যালয়টি থাকলেও বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিদিনই আসা যাওয়া করতে হয়। এতে অনেক সময় ভয় লাগে।

রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম জানান, তার বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীই নদী পারের বাসিন্দা। প্রতিদিন স্কুলের বই খাতা ব্যাগ পিঠে বহন করে তাদেরকে একটি মাত্র বাশের সাঁকোর উপর দিয়ে আশা যাওয়া করতে হয়। এ কারণে আমরাও অনেক সময় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনেক চিন্তিত থাকি। কখন বাঁশের সাঁকোর উপর থেকে নদীতে পরে যায়। বিভিন্ন সময়ে এই সাঁকো থেকে পরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছেও। তিনি এই নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মানের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানান।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের আসা যাওয়ার জন্য নিরাপদ সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা একটি বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হয়, এ দৃশ্য দেখলেও খুব কষ্ট হয়। তিনিও এই সুতি নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মানের অনুরোধ জানান।

রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফুর রহমান আকন্দ বলেন, বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিনই ছোট ছোট শিক্ষার্থী ও সাধারন জনগণ চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। আমরা চেষ্টা করছি ওই নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মানের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের নিকটও জোর দাবী জানানোর হয়েছে। তিনি বলেন, আমার জানামতে সংসদ সদস্য এই ব্রীজ নির্মানের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর ডিও লেটার দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের সঙ্গে সেতু নির্মানের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেতুটি নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অত্যান্ত গুরুত্ব সহকারে সুপারিশপত্র দেয়া হয়েছে।