মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে ৩৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট


ebdn প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২, ৮:০৫ অপরাহ্ণ /
মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে ৩৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার দুটি বাজারের ৩৪টি দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভাংচুরের হাত থেকে রেহাই পায়নি ওষুধের দোকান থেকে শুরু করে চুলকাটার সেলুন পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই দুই বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ও শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে।

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৮-১০ দিন আগে ঘারুয়া ইউনিয়নের মকরমপট্টি সড়কে গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে মকরমপট্টি গ্রামের কয়েকজন যুবক ও কিশোরের সাথে চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী গ্রামের কয়েক যুবকের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গত শুক্রবার বিকালে ঘারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা শেষে ২ গ্রামের যুবক ও কিশোরদের মধ্যে পুনরায় হাতাহাতি ও ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতে পূর্ব সদরদী গ্রামের শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘারুয়া বাজারের ৯টি দোকান কোপায় ও ভাংচুর করে। শনিবার সকাল ৭টার দিকে ঘারুয়া ইউনিয়নের মকরমপট্টি গ্রামের কয়েকশত লোক ঢাল, সড়কি, রামদাসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী বাজারের ২৫টি দোকান ভাংচুর ও কোপায়। এ সময় লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

 

সরেজমিন শনিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘারুয়া ইউনিয়নের ঘারুয়া বাজার ও চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী বাজার ২০০ গজ পূর্ব পশ্চিমে অবস্থিত। মাঝখান দিয়ে কুমার নদ চলে গিয়েছে। কুমার নদের একটি সেতু দুই বাজারকে সংযোগ করেছে। কুমার নদের পূর্বপাশে অবস্থিত পূর্ব সদরদী বাজারে শনিবার সকালে তেমন লোক দেখা যায়নি। পুলিশ অবস্থান করছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাট ব্যবসায়ী মানিক শেখ বলেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে ঘারুয়া ইউনিয়নের কয়েকশত লোক অতর্কিত আমাদের বাজারে ভাংচুর ও লুটপাট করে। আমার প্রায় ২০ মণ পাট লুট করে নিয়ে যায়। বেশ কয়েক মণ পাট কুমার নদে ফেলে দেয়। প্রত্যেক দোকানের বৈদ্যুতিক মিটার ভাংচুর করেছে।

 

বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী দুলাল ফকির (৬৫) বলেন, ঘারুয়া ইউনিয়নের লোকজন আমার সর্বনাশ করেছে। বাজারের দোকানপাট খোলার আগেই সকাল ৭টা থেকে প্রায় ৮টা পর্যন্ত ওরা তাণ্ডব চালিয়েছে।

 

অপর দিকে ঘারুয়া বাজারের সিরাজ মিয়া ও বিল্লাল খলিফার চায়ের দোকান, জামাল শিকদারের কসমেটিক্স এর দোকান, কুতুব শিকদার ও ইলিয়াস সিকদারের মুদি দোকান, আবুল বাশারের টেইলার্সের দোকান, সজিব মিয়ার কনফেকশনারি, গোবিন্দ মালোর মিস্টির দোকান, মহশিন মিয়ার সেনেটারীর দোকানেও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

 

বাজারের ব্যবসায়ী বিল্লাল খলিফা বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পূর্ব সদরদী গ্রামের শতাধিক লোক দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আমার দোকানসহ বাজারের ৯টি দোকান ভাংচুর করে।

 

চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী বাজারের ব্যবসায়ীদের সর্বনাশ হয়েছে। তাদের দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করেছে ঘারুয়া ইউনিয়নের লোকজন। গাঁজা খাওয়া নিয়ে এ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছে।

 

ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর মুন্সী বলেন, চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী গ্রামের কয়েক তরুণ আমার ইউনিয়নে এসে গাঁজা খেয়েছে। আমাদের মকরমপট্টির ছেলেরা প্রতিবাদ করায় ওদের মারধর করেছে। শুক্রবার রাতে আমাদের ঘারুয়া বাজারের বেশ কিছু দোকান ভাংচুর করেছে। আজ শনিবার আমার ইউনিয়নের মকরমপট্টি গ্রামের লোকজন পূর্ব সদরদী বাজারে গিয়ে সামান্য ভাংচুর করেছে।

 

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ভাংচুরের খবর পেয়েই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এখনও সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।