বাউফলে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ /
বাউফলে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বাউফল : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব যাদব কুমার দত্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন একই ইউনিয়নের মেম্বার আসাদুল হক জুয়েল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্ম নিবন্ধন অনলাইন ডাটাবেজ করতে সরকার নির্ধারিত ফি ৫০ টাকার পরিবর্তে ৮-৯ গুণ বেশি টাকা আদায় করছেন ইউপি সচিব যাদব কুমার দত্ত।

সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য কেশবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে ৭-৮টি এজেন্ট বসিয়েছেন সচিব। ওই এজেন্টরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকার পরিবর্তে প্রতিজনের কাছ থেকে নিচ্ছেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ইউপি সদস্যরা বেশি টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করলেও সচিব কোনো কর্ণপাত করছেন না।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে- সচিব যাদব কুমার দত্ত সপ্তাহে ২-৩ দিন ইউনিয়ন পরিষদে বসেন। বাকি দিনগুলো পটুয়াখালীতে অবস্থান করেন। এর ফলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ইউপি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কোন মানুষের সচিবকে জরুরি প্রয়োজন হলে পটুয়াখালী শহরে গিয়ে কাজ করাতে হয়।

ইউএনওর কাছে অভিযোগকারী কেশবপুর ইউপি সদস্য মো. আসাদুল হক জুয়েল বলেন, জন্ম নিবন্ধন করাতে সরকারি ফি ৫০ টাকা। সচিব আদায় করছেন ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা। কোনো মানুষ টাকা দিতে না পারলে তার কাজ ফেলে রাখা হয়। এছাড়া নিয়মিত অফিসে না আসায় জনগণ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

কেশবপুর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য মোসা. কাকলী রুমি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। আমার দুটি বাচ্চার জন্ম নিবন্ধন করতেই সচিবকে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে। এরপর কম্পিউটার ও অনলাইন খরচ রয়েছে।

৩নং ওয়ার্ডের মেম্বর সহিদ সিকদার জানান, জন্ম নিবন্ধনে সচিব সর্বনিম্ন ১৫০ টাকা নিচ্ছেন এটা সত্য। অভিযোগের সাথে একমত পোষণ করে ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাইফুল ইসলাম বলেন, বাউফলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে কেশবপুর। সেখানে সচিব সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিস করেন। সচিব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি জন্ম নিবন্ধনে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। আমরা প্রতিবাদ করেও সুরাহা পাচ্ছি না। এছাড়াও এলজিএসপিসহ অন্যান্য বিভিন্ন কাজের বিল থেকেও সচিব টাকা কেটে রাখেন। প্রতিবাদ করলে বিল আটকে রাখেন।

অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সচিব যাদব কুমার দত্ত বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।