ভোলায় নির্বাচনী প্রতীক দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স ছাপালেন ইউপি চেয়ারম্যান


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২, ২:২৩ অপরাহ্ণ /
ভোলায় নির্বাচনী প্রতীক দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স ছাপালেন ইউপি চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার, ভোলা : ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সে ছাপানো হয়েছে চেয়ারম্যানের নির্বাচনী প্রতীক। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই ওই ইউনিয়নে সমালোচনার ঝড় বইছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা রকম নেতিবাচন মন্তব্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আনোয়ার হোসেন ছোটন।

নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ইউনিয়নের পূর্বের ছাপানো ট্রেড লাইসেন্স বাদ দিয়ে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স ছাপান তিনি। এর ওপরে ডান পাশে নিজের নির্বাচনী প্রতীক দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স ছাপানো হয়। নতুন অর্থবছর থেকে তার প্রতীকসহ ছাপানো ট্রেড লাইসেন্স বিতরণ শুরু করেন। প্রথমে বিষয়টি কারো নজরে না আসলেও গত সপ্তাহে এরকম একটি ট্রেড লাইসেন্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই ট্রেড লাইসেন্সে দেখা যায়, ওপরে ইউনিয়ন পরিষদের নামের ডান পাশে আনারস প্রতীক ও বাম পাশে ইউনিয়ন পরিষদের গোল সিল দেওয়া আছে।

বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইলিশা ইউনিয়নের ইলিশা বটতলা ও জংশন বাজারের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে করা সকল ট্রেড লাইসেন্সেই আনারস প্রতীক দেওয়া। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর আগের চোয়ারম্যানের দেওয়া ট্রেড লাইসেন্সের ভেতরে জাতীয় প্রতীক শাপলা দেওয়া ছিল। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ভেতরের অংশে শাপলা প্রতীকের জলছাপের পাশাপাশি ওপরের অংশে স্পষ্ট করে তার নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নতুন ট্রেড লাইসেন্স নেয়া ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন জানান, তিনি গত আগস্ট মাসের ২৭ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার ইলেক্ট্রনিক দোকানের জন্য একটি ট্রেড লাইসেন্স করেন। সেখানে চেয়ারম্যান নিজে স্বাক্ষর করেছেন। ট্রেড লাইসেন্সের এক কোনায় চেয়ারম্যানের নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া রয়েছে, যা ইলিশা ইউনিয়নের কোনো চেয়ারম্যান এর আগে করেননি। তবে কী জন্য তিনি এটি করেছেন সেটা তার জানা নেই।

ইলিশা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক ও পূর্ব ইলিশা যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, একজন চেয়ারম্যান ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্সে নিজের নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন না। এটা তিনি ঠিক করেননি। নির্বাচনে বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সেখান থেকে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী চেয়ারম্যান ইউনিয়নের সকল জনগণের চেয়ারম্যান। ট্রেড লাইসেন্সে নিজের প্রতীক ব্যবহার করে মানুষকে ভাগ করে দিয়েছেন। একজন চেয়ারম্যান কাছে আমরা এটা আশা করি না।

ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. নোমান জানান, ট্রেড লাইসেন্সে কী ব্যবহার করা যাবে আর কী যাবে না এটার সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই। আগে ট্রেড লাইসেন্সে শাপলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক ছিল না। তবে আনারস প্রতিক এটা চেয়ারম্যান সাহেব নিজে দিয়েছেন। এখন এটির ব্যাপারে যেহেতু কথা উঠেছে এখন আর এটা দেওয়া হবে না।

তিনি আরো জানান, এ ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে এক হাজারেরও কম দোকানের। আবার সবাই হালনাগাদও করায় না। তাই চেয়ারম্যান সাহেব নতুন ১০০ পাতার ১০টা বই করে এনেছেন।

এ ব্যাপারে ইলিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন ছোটন জানান, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। যাকে এটি করতে দেওয়া হয়েছে তিনি ভুলবশত এটি করেছেন। এ পর্যন্ত নতুন ছাপানো ট্রেড লাইসেন্সের তিন চারটি বই শেষ হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে এগুলো বাতিল করে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স ছাপাতে দেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে নতুন ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাবে।

ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আলী সুজা জানান, ট্রেড লাইসেন্সে অন্য চেয়ার‌্যম্যানের নিজস্ব কোনো প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এগুলো বাতিল করে দিয়েছেন। আর ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছে চেয়ারম্যান।