কোটি টাকার সেতু পার হতে লাগে কাঠের সাঁকো


Barisal Crime Trace -GF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ /
কোটি টাকার সেতু পার হতে লাগে কাঠের সাঁকো

নিজস্ব প্রতিবেদক : একটি সেতুর অভাব পূরণ হলেও পাঁচ বছর ধরে এর সুফল পাচ্ছেন না কুড়িগ্রাম পৌরশহরের চর ভেলাকোপাবাসী। একপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকো হয়ে সেতুতে উঠতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে না। প্রয়োজনের তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে কুড়িগ্রাম পৌরসভার অধীনে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভেলাকোপার হানাগড় এলাকার মাথায় সোয়া এক কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কসহ হানাগড় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ১৭ মিটার দৈর্ঘ্য ও পাঁচ মিটার প্রস্থ সেতুটি গ্রামবাসীদের জন্য আর্শীবাদ হয়ে এলেও ২০১৭ সালের বন্যায় অভিশাপে রূপ নেয়। বন্যায় কোটি টাকা ব্যয়ের সেতুটির ক্ষতি না হলেও সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। পরে দীর্ঘদিনেও মেরামত না হওয়ায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে চলাচলের ব্যবস্থা করেন গ্রামবাসী।

পৌরশহরের ভ্যানচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘সাঁকো দিয়ে আর কত বছর এভাবে চলা যায়? দুমাস পর পর ভেঙে যায়। অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। ভ্যান নিয়ে পার হতে গেলে কষ্টের শেষ থাকে না।’

 

 

ভেলাকোপা গ্রামের বাসিন্দা আয়নাল হক বলেন, ‘প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ছোট বাচ্চারাও পার হয়। হঠাৎ করে যদি কেউ এখান থেকে পড়ে মৃত্যু ছাড়া উপায় নেই। পৌরসভা থেকে লোক আসে। তাদেরকে বললে ওনারা কোনোরকম ঠিক করে দিয়ে যায়। কবে এর সমাধান হবে তা আল্লাহ মাবুদ ছাড়া কেউ জানে না।

 

 

শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সেতুটি ৪-৫ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। আমাদের চলাফেরা করতে সমস্যা হয়। কোনো কারণে পা পিছলে পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।’

 

স্থানীয় রুপজান বেগম বলেন, ‘ব্রিজটি মেলাদিন (অনেকদিন) ধরে এই অবস্থা। বন্যা হলে আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। চলাচল করতে পারি না। ব্রিজটা ভালো (মেরামত) করলে আমাদের গ্রামবাসীর উপকার হতো।

 

 

জানতে চাইলে ভেলাকোপার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জমশেদ আলী টুংকু বলেন, ‘আমি অনেকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তবে অর্থ বরাদ্দ করে সেটি মেরামত করা তাদের দায়িত্ব। স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে আমি নিজেও এই সেতুর মেরামতের কাজ করেছি। আমি চাই টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে সেতুটির সংযোগ সড়কের কাজ করা হোক।’

 

 

কথা হয় কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি  বলেন, ‘ভেলাকোপা সেতুর সমস্যা সমাধানে পৌরমেয়র চেষ্টা করছেন। বরাদ্দের কারনে স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। সাময়িক সমাধানের জন্য বাঁশ, কাঠ দিয়ে সাঁকোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরমেয়র কাজিউল ইসলাম বলেন, ভেলাকোপা সেতুর বিষয়ে কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।