বাউফলে সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন ইউপি সচিব!


Barisal Crime Trace -FF প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২, ১২:২১ অপরাহ্ণ /
বাউফলে সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন ইউপি সচিব!

স্টাফ রিপোর্টার, বাউফল : সপ্তাহে দুই দিন অফিস করা এবং জন্মনিবন্ধন অনলাইন ডেটাবেইস করতে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব যাদব কুমার দত্তের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. আসাদুল হক জুয়েল নামের এক ইউপি সদস্য।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর ইউপির সচিব সপ্তাহে দুই-তিন দিন কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন। অন্য দিনগুলোতে তিনি পটুয়াখালীর নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন। এ সময় পরিষদের সেবা নিতে আসা লোকজন ভোগান্তিতে পড়েন। অতি প্রয়োজনে পরিষদ কার্যালয়ে সচিবকে না পেলে পটুয়াখালী গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হয়।

এ ছাড়া নতুন জন্মনিবন্ধন, জন্মনিবন্ধন সংশোধন, মৃত্যুনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স করতে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে এজেন্ট বসিয়েছেন তিনি। এজেন্টরা মানুষের কাছ থেকে জন্মনিবন্ধনের আবেদন সংগ্রহ করে সরকারনির্ধারিত ৫০ টাকার পরিবর্তে প্রতিজনের কাছ থেকে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা নিচ্ছেন।

অভিযোগকারী ইউপি সদস্য জুয়েল বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন করাতে সরকারি ফি ৫০ টাকা। সচিব আদায় করছেন ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা।’ কেশবপুর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য কাকলী রুমি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। আমার দুটি বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করাতে সচিবকে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে। এরপর কম্পিউটার ও অনলাইন খরচ রয়েছে।’

৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সহিদ সিকদার ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, বাউফলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে কেশবপুর। সেখানে সচিব সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। তিনি জন্মনিবন্ধনে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। প্রতিবাদ করেও সুরাহা পাচ্ছি না।

অভিযুক্ত ইউপি সচিব বলেন, ‘একটা পক্ষ ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দিচ্ছে। এসব ডাহা মিথ্যা ও বানোয়াট।’ ইউএনও মো. আল আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’